গাড়ির শব্দে অতিষ্ঠ? নয়ডার এই এলউভেটেড রোডে আসছে বিরাট পরিবর্তন, স্বস্তিতে হাজার হাজার পরিবার!

নয়ডার ভঙ্গেলে এলিভেটেড রোড দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দ ও হর্নের আওয়াজে অতিষ্ঠ আশপাশের বাসিন্দারা এবার খুব শীঘ্রই বড় স্বস্তি পেতে চলেছেন। নয়ডা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আগাহপুর থেকে সেক্টর-৮২ পর্যন্ত প্রায় ৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড রোডের দুপাশে ‘নয়েজ ব্যারিয়ার’ বা শব্দ নিরোধক প্রাচীর লাগানোর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য জারি করা টেন্ডারে পাঁচটি সংস্থা অংশ নিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের জমা দেওয়া নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচিত সংস্থাকে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার বা চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গেই এই শব্দ নিরোধক ব্যারিয়ার বসানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। এই পুরো প্রকল্পটিতে প্রায় ১৮.৮১ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এলিভেটেড রোডের উভয় দিকে এই ব্যারিয়ারগুলি লাগানো হবে, যার ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলির তীব্র আওয়াজ বা হর্নের শব্দ সরাসরি আশেপাশের আবাসিক এলাকায় পৌঁছাতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে এলিভেটেড রোডের নিকটবর্তী হাজার হাজার পরিবার মারাত্মক শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
কেন নেওয়া হলো এই উদ্যোগ?
ভঙ্গেল এলিভেটেড রোডটি আগাহপুর, সেক্টর-৪০, ৪৯, ৪৮, ১০৭, বরৌলা এবং ভঙ্গল গ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে গিয়েছে। এলিভেটেড রোডটি চালু হওয়ার পর থেকেই এখানে প্রতিনিয়ত যানবাহনের চাপ ও ট্রাফিকের ভিড় বেড়েই চলেছে। সারাদিন ধরে প্রচুর সংখ্যক ভারী ও ছোট গাড়ি যাতায়াত করার ফলে যে তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়, তাতে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই নয়ডা কর্তৃপক্ষ নয়েজ ব্যারিয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নয়ডা কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সংস্থাকে মাত্র দুমাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কোম্পানি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই শব্দ নিরোধক প্রাচীর লাগানোর কাজ খুব দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা যাবে। এলিভেটেড রোডে যে সাউন্ড ব্যারিয়ার বা শব্দ নিরোধকগুলি বসানো হবে, সেগুলির উচ্চতা হবে প্রায় ৬ ফুট। এছাড়া এগুলির নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘ইন্ডিয়ান রোডস কংগ্রেস’-এর সমস্ত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা হবে।
৫০ ডেসিবেল পর্যন্ত কমতে পারে শব্দের তীব্রতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ পরিবেশে ০ থেকে ২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দকে শান্ত বা সহনশীল বলে ধরা হয়, কিন্তু ৮০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার আওয়াজ মানব স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
নয়ডা অথরিটির ওয়ার্ক সার্কেল-৮-এর সিনিয়র ম্যানেজারোহিত কুমারের তথ্য অনুযায়ী, এই নয়েজ ব্যারিয়ারগুলি হাইওয়ে এবং সংলগ্ন আবাসিক এলাকার মাঝখানে একটি শক্তিশালী শব্দ প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে রাস্তা থেকে উৎপন্ন হওয়া অতিরিক্ত শব্দের তীব্রতা অনেকটাই কমে যাবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিশেষ ব্যারিয়ারগুলির শব্দ কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় ৫০ ডেসিবেল পর্যন্ত।
এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সেক্টর-৪২, ৪৮, ৪৯, ৪৭, ১১০ এবং ১০৭ সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা গাড়ির আওয়াজের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবেন। এই নতুন উদ্যোগের ফলে ভঙ্গল এলিভেটেড রোড একদিকে যেমন যান চলাচলকে সুগম করবে, তেমনই স্থানীয় আবাসিক অঞ্চলগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।