মধ্যপ্রদেশে বিরাট রাজনৈতিক ঝড়! ভেঙে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে নামী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাদ যাচ্ছে ‘রাজীব গান্ধী’ নামও?

মধ্যপ্রদেশ সরকারের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। ভোপালের নামী ‘রাজীব গান্ধী প্রৌঢ়ত্ব ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ (RGPV)-কে ভেঙে তিনটি আলাদা অংশে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, এই পুনর্গঠনের জেরে ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ‘রাজীব গান্ধী’-র নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস। একে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র বলে তোপ দেগেছে প্রধান বিরোধী দল।

তিন টুকরো হচ্ছে আরজিপিভি, কী নাম হবে?
১৯৯৮ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের আমল তথা মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের জমানায় ‘মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা অধিনায়ক ১৩, ১৯৯৮’-এর অধীনে ভোপালে আরজিপিভি (RGPV) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত দেশে প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম রূপকার রাজীব গান্ধীর প্রতি সম্মান জানিয়েই তাঁর নামানুসারে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছিল, যা সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং দিগ্বিজয় সিং।

তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪১.৬৪ একর জমিতে বিস্তৃত বর্তমান ভোপাল ক্যাম্পাসটিকে পুনর্গঠন করে নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মধ্য ভারত প্রযুক্তি ও कौशल বিশ্ববিদ্যালয়’। পাশাপাশি, মধ্যপ্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শিক্ষা পরিকাঠামো ছড়াতে উজ্জয়িনীর স্বায়ত্তশাসিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ‘মালফা প্রযুক্তি ও कौशल বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং জব্বলপুরের স্বায়ত্তশাসিত কলেজকে ‘মহাকসল প্রযুক্তি ও कौशल বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে এবার তৈরি হবে তিনটি আলাদা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশাল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিধি কতখানি?
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মধ্যপ্রদেশের উচ্চ কারিগরি শিক্ষার প্রধান স্তম্ভ ছিল এই আরজিপিভি। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৫টি প্রযুক্তি বিভাগ, ১৩০টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ২১৫টি ফার্মেসি কলেজ, ৫৪টি এমসিএ কলেজ, ৮৫টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ২টি পিএইচডি রিসার্চ সেন্টারসহ মোট ৫৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এখানে প্রায় ৩.৮৩ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ম্যানেজমেন্ট, এআই (AI) ও এমএল (ML), ফোরেন্সিক সায়েন্স থেকে শুরু করে স্পেস সায়েন্স ও ন্যানো টেকনোলজির মতো আধুনিক বিষয়ে কোর্সের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা কদর রয়েছে।

এমতাবস্থায়, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এবং একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *