সোনার মুদ্রার মতো ঝিলমিল করছে বালিতে! সমুদ্রের তলদেশে বিজ্ঞানীদের চোখ ছানাবড়া করা কোন রহস্যময় জীবের দেখা মিলল?

সমুদ্রের তলায় হঠাৎ চোখে পড়লে প্রথম পলকে যে কারোরই মনে হতে পারে, বালির বুকে অসাবধানতাবশত পড়ে রয়েছে কোনো ছোট্ট সোনার মুদ্রা। কিন্তু একটু ভালো করে খেয়াল করলেই ভুল ভাঙবে। আসল সোনা নয়, ওটি আসলে একটি জীবন্ত রে মাছ! সম্প্রতি কোস্টারিকার সমুদ্রের তলদেশে বিজ্ঞানীরা প্রথমবার এমন একটি দাগযুক্ত গোলাকার রে মাছ নথিবদ্ধ করেছেন, যার শরীরের স্বাভাবিক বাদামি রং পুরোপুরি বদলে গিয়ে হয়ে উঠেছে উজ্জ্বল গভীর সোনালি হলুদ।

গবেষকদের মতে, এই অস্বাভাবিক সোনালি রঙের নেপথ্যে রয়েছে অত্যন্ত বিরল একটি ত্বকের রঞ্জকজনিত সমস্যা। সাধারণত চামড়ার পিগমেন্ট বা রঞ্জকের ভারসাম্য বদলে গেলেই এমন সোনালি আভা ফুটে উঠতে পারে। তবে হাঙর এবং রে মাছের প্রায় ১২৫০টি পরিচিত প্রজাতির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মোটে ৭টিতে এই অদ্ভুত সমস্যার হদিশ মিলেছে। আর যে পরিবার থেকে এই রে মাছটি এসেছে, সেখানে এমন ঘটনা আগে কখনো নথিভুক্তই হয়নি।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা ভিন্ন সময়ে এই রে মাছটির দুটি আলাদা ছবি তুলেছিলেন। কিন্তু প্রাণীটির গায়ে কোনো ট্যাগ লাগানো না থাকায় গবেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে, বারবার দেখা পাওয়া মাছটি আদতে একই কি না? এই রহস্যের জট খোলে মাছটির পিঠের কয়েকটি নির্দিষ্ট কালো দাগ দেখে। মানুষের হাতের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো ওই দাগগুলির প্যাটার্ন হুবহু মিলিয়ে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, দুবারই তাঁদের ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল একই সোনালি রে মাছ।

প্রাণীটির এমন অস্বাভাবিক রঙের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট দাবি, এর পেছনে দূষণের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। সবমিলিয়ে কোস্টারিকার সমুদ্রের এই ছোট্ট গোল্ডেন রে কেবল একটি বিরল সামুদ্রিক জীবই নয়, বরং সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের জগতের এক নতুন ও অমীমাংসিত রহস্য হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *