জন্মাষ্টমীতে ঘরের মেঝেতে কৃষ্ণের ছোট পায়ের ছাপ কেন আঁকা হয়? জানুন এর পিছনের গভীর পৌরাণিক রহস্য!

ভগবান কৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মাষ্টমী উৎসব অত্যন্ত উৎসাহ ও ভক্তির সাথে পালিত হয়। এই দিনে ঘর ও মন্দিরে বিশেষ সাজসজ্জা করা হয় এবং রাতে লাড্ডু গোপালের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। জন্মাষ্টমীর অন্যতম সুন্দর ও বিশেষ একটি ঐতিহ্য হলো ঘরে ভগবান কৃষ্ণের ছোট ছোট পদচিহ্ন তৈরি করা। বিশ্বাস করা হয় যে এই পদচিহ্নগুলি ঘরে ভগবান কৃষ্ণের আগমনের প্রতীক।

চলতি বছরে জন্মাষ্টমীর সঠিক দিন ও তিথি
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি ৪ঠা সেপ্টেম্বর ভোর ২:২৫ মিনিটে শুরু হয়ে ৫ই সেপ্টেম্বর রাত ১২:১৩ মিনিটে শেষ হবে। জন্মাষ্টমীর মূল উৎসব নিশিতা কালের রাতে পালিত হয়। তাই ৪ঠা সেপ্টেম্বর উপবাস রাখা এবং সেই রাতে ভগবান কৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

পদচিহ্ন আঁকার পৌরাণিক বিশ্বাস ও তাৎপর্য
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, জন্মাষ্টমীতে ঘরে ভগবান কৃষ্ণের শিশু রূপ লাড্ডু গোপালের পদচিহ্ন আঁকাকে তাঁর স্বয়ংগৃহে আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে, জন্মের পর যেমন ভগবান কৃষ্ণের দিব্য রূপ জগতে প্রকাশিত হয়েছিল, তেমনই জন্মাষ্টমীর রাতে কৃষ্ণকে ভক্তিভরে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে প্রার্থনা কক্ষ বা যেখানে লাড্ডু গোপালকে বসানো হয়েছে, সেই স্থান পর্যন্ত ছোট ছোট পদচিহ্ন আঁকা হয়। এই পদচিহ্নগুলি এই অনুভূতির প্রতীক যে স্বয়ং ভগবান কৃষ্ণ ভক্তের বাড়িতে আগমন করছেন।

বাল গোপালের শিশু রূপ ভক্তদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। লাড্ডু গোপালকে শিশুর মতো সাজানো, তাঁকে অন্ন নিবেদন করা, দোলনায় বসানো এবং তাঁর জন্মদিন উদযাপন করা জন্মাষ্টমীর বিশেষ ঐতিহ্য। এই অনুভূতির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ছোট্ট পদচিহ্নগুলো। ভক্তরা যখন প্রবেশদ্বার থেকে এই নকশা তৈরি করেন, তখন এমন এক অলৌকিক ভাবনার সৃষ্টি হয় যে দুষ্টু কৃষ্ণ তাঁর ছোট্ট পায়ে হেঁটে ঘরে প্রবেশ করছেন। এই পদচিহ্নগুলো রঙ্গোলি, চালের পেস্ট বা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। তবে পদচিহ্ন আঁকার সময় সর্বদা খেয়াল রাখা উচিত যাতে পায়ের পাতার দিকটি বাড়ির ভেতরের দিকে থাকে, যা দেবগৃহে প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *