রেকর্ড ১২৫ মিলিয়নে চেলসি ছাড়লেন এনজো ফার্নান্ডেজ! আকাশছোঁয়া অর্থে স্কোয়াড সাজিয়ে বাজিমাত ম্যান সিটির

রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের মেগা চুক্তিতে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের তারকা মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্ডেজকে দলে ভিড়িয়মিত ফুটবল বিশ্বে এক নতুন ঝড় তুলল ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসি ছেড়ে অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ২৫ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত তাঁর দলবদল নিশ্চিত হলো এবং এর মাধ্যমেই লিভারপুলের গড়া ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ডের সমকক্ষ হলো ম্যান সিটি। চলতি দলবদল উইন্ডোতে ম্যানচেস্টার সিটির মোট খরচ গিয়ে ঠেকেছে এক অবিশ্বাস্য অঙ্ক—৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক উইন্ডোতে কোনো একক ক্লাবের সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড। অবশ্য এর বিপরীতে বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে বিক্রি করে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড তুলে নিতেও সক্ষম হয়েছে সিটি ম্যানেজমেন্ট।
চেলসিতে কঠিন সময় ও সমর্থকের বিদ্রুপ
এর আগে ২০২৩ সালে ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বেনফিকা ছেড়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রেখেছিলেন এনজো। সেই সময়ও তাঁর ট্রান্সফার ফি নতুন রেকর্ড গড়েছিল। তবে চেলসিতে তাঁর শেষ সময়গুলো একেবারেই ভালো কাটেনি। ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে চেলসি সমর্থকদের চরম বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ফুলহ্যামের বিরুদ্ধেও গ্যালারি থেকে কটূক্তি শুনতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর লুটন এবং ব্রাইটনের বিরুদ্ধে স্কোয়াডে সুযোগ পাননি তিনি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ছাড়ার আগে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন খোলা চিঠিতে নিজের মানসিক কষ্টের কথা স্বীকার করে এনজো লেখেন, “আমি চাই আপনারা জানুন, এই দিনগুলো আমার জন্য সহজ ছিল না। সত্যি বলতে, আমি ভালো জায়গায় ছিলাম না।” চেলসিকে হৃদয়ে জায়গা দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি ক্লাবের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
সিটির মাঝমাঠের শক্তি বৃদ্ধি
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার সুবাদে আবারও পুরোনো গুরু এনজো মারেস্কার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। বর্তমানে মিডফিল্ডে তিজ্জানি রেইন্ডার্স, রডরি ও নিকো গঞ্জালেজের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দল ছাড়ায় মাঝমাঠে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল সিটির। এনজো ফার্নান্ডেজের অন্তর্ভুক্তি সেই অভাব পূরণ করে পেপ গার্দিওলার দলকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।