বিনা খরচে ছাদে সোলার প্যানেল! দিল্লির বাড়িগুলোকে বিদ্যুৎ জেনারেটরে পরিণত করার বড় ঘোষণা সরকারের

সৌরশক্তিকে উৎসাহিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে আর্থিক স্বস্তি দিতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দিল্লি সচিবালয়ে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি সৌরশক্তি নীতি-২০২৩-এর দ্বিতীয় সংশোধনী বা নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। এই নতুন নীতির আওতায় যে সমস্ত গৃহস্থালি গ্রাহক চলতি অর্থবর্ষে গড়ে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তাঁরা কোনো রকম প্রাথমিক বা অগ্রিম বিনিয়োগ ছাড়াই সরাসরি ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত রুফটপ সোলার সিস্টেম বসাতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ৭৮,০০০ টাকার ভর্তুকির পাশাপাশি দিল্লি সরকার আরও ৭৮,০০০ টাকার মূলধনী ভর্তুকি প্রদান করবে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত টপ-আপের মাধ্যমে ভর্তুকি এবং সোলার প্ল্যান্টের মোট খরচের মধ্যকার ব্যবধানও পূরণ করবে সরকার। ফলে গ্রাহকদের ওপর কোনো রকম প্রাথমিক আর্থিক বোঝা থাকবে না। যাঁদের বাড়িতে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাঁরা সোলার সিস্টেম বসানোর পরেও আগের মতো ভর্তুকির সুবিধা পেতে থাকবেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠিয়ে শক্তি-সাশ্রয়ী প্রণোদনা বা বোনাস হিসেবে আয়ও করতে পারবেন।

দিল্লির বিদ্যুৎমন্ত্রী আশীষ সুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘পিএম সূর্য ঘর: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প’-কে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ। সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ বিল কমানো নয়, বরং দিল্লির প্রতিটি বাড়িকেই এক একটি বিদ্যুৎ জেনারেটরে রূপান্তরিত করা। আগামী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দিল্লির ২ লক্ষ ৩০ হাজার বাড়ির ছাদে সৌর ব্যবস্থা স্থাপন এবং অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌর ক্ষমতা যুক্ত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন।

নতুন এই নীতিতে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:

সোলার সিস্টেম স্থাপনের পর প্রথম পাঁচ বছর সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা সংস্থাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

আবাসিক সোলার সিস্টেমের জন্য নেট মিটারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা আগের প্রায় ৭৫ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ দিন করা হয়েছে।

১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক সোলার সিস্টেমের জন্য সমস্ত আবেদন ও নিবন্ধন ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে।

সরকারের এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লির বাসিন্দারা আগামী ২৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং সবুজ শক্তির সুফল ভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *