‘অর্জুন বাহিনী’ গড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যোগ্যতা কী? বেতন কত জানেন?

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে দেদার হোটেল ও হোমস্টে তৈরির ফলে বাস্তুতন্ত্র ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নেপালের মতো ধ্বংসলীলা নেমে আসতে পারে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলেও। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্জুন বাহিনী’।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-এর আদলে তৈরি করা হচ্ছে এই স্পেশাল ফোর্স। প্রাথমিকভাবে রাজ্য সৈনিক বোর্ডের আওতায় ২০০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। প্রথম দফায় এই বিশেষ বাহিনীর ১০০ জনকে কলকাতায়, ৫০ জনকে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে এবং বাকি ৫০ জনকে দার্জিলিং পাহাড়ের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হবে।
কারা সুযোগ পাবেন এবং যোগ্যতা কী?
অর্জুন বাহিনীতে যোগদানের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতা ধার্য করা হয়েছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত অগ্নিবীর এবং সেনা থেকে অবসর নেওয়া ৪০ বছর বা তার কম বয়সীরা এই বাহিনীতে অগ্রাধিকার পাবেন। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে যে অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ অবসর নেবে, তাঁদের পুলিশ, ফায়ার, ফরেস্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ২০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা:
দেশের সুরক্ষায় কাজ করার পর এবার বিপর্যয় মোকাবিলায় যোগ দিতে চলা এই বীর জওয়ানদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় সম্মানি ও আর্থিক সুরক্ষার ব্যবস্থা।
-
প্রধানের বেতন: অর্জুন বাহিনীর প্রধান বা ‘বীরনায়ক’-কে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে।
-
সদস্যদের বেতন: বাহিনীর বাকি সদস্যরা প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে এই সাম্মানিক বৃদ্ধি পাবে।
-
বিমা কভারেজ: উদ্ধারকাজের সময় কোনও সদস্যের গুরুতর চোট বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকার জীবনবিমা কভারেজ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে এই বাহিনীকে আরও আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে আরও বড় আকারে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড় থেকে সুন্দরবন—সব ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে এই নতুন ‘অর্জুন বাহিনী’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।