চার্জারের তারে গলা পেঁচিয়ে তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে খুন! সুরাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এক সপ্তাহ পরেও অধরা খুনি

বছর বাইয়ের এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের নৃশংস মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সুরাতের গোদাবড়ি গ্রামে ২২ বছরের তরুণী নিধি প্যাটেলকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। গত ২৪ আগস্ট সকালে তাঁর বাড়ি থেকে নিধির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে বা হত্যার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে মান্ডভি পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট ক্লু না মেলায় সুরাতের এসপি রাজেশ গাড়িয়া এই মামলার তদন্তভার একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের (SIT) হাতে তুলে দেন। মান্ডভি ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপার অক্ষেশ ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন পুলিশকর্মীকে নিয়ে এই বিশেষ দল গঠন করা হয়। তবে চার দিন পেরিয়ে গেলেও সিট এখনও পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীর সন্ধান করতে পারেনি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিধি প্যাটেলকে হত্যার পর অপরাধীর জোর করে বাড়িতে প্রবেশের কোনো প্রমাণ বা ধস্তাধ্বস্তির চিহ্ন মেলেনি। তাই তদন্তকারীদের জোরালো সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার সময় নিধি বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর বাবা-মা তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন এবং বাড়ি ফিরে তাঁরা ছাদের ওপর মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পান।
তদন্তে জানা গিয়েছে, নিধির গলায় শর্টসের দড়ি এবং মোবাইল চার্জারের কেবল শক্ত করে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এছাড়া দুটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে তাঁর মুখও নির্মমভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তরুণীর গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যার ফলে যৌন নির্যাতনের সন্দেহও আরও জোরালো হয়েছে। পুলিশের নজরে এসেছে, ঘটনার সময় বাড়ির পিছনের দরজা খোলা থাকলেও সামনের দরজাটি ভিতর থেকে সশব্দে বন্ধ করা ছিল।
বর্তমানে পুলিশ নিধির হাতের আঙুলের ছাপ, সাম্প্রতিক ফোন কল রেকর্ড, টেক্সট মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। একাধিক সম্ভাব্য দিক নিয়ে তদন্ত এগোলেও এখনও কোনো স্পষ্ট দিশা মেলেনি। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মামলার সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে পুলিশ এখনই কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করছে না। তবে দ্রুত গতিতে তদন্ত চালিয়ে শীঘ্রই রহস্য ভেদ করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।