নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান! মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ চার হাজার!

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক দেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১,০০৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় গোটা দেশে ফের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অসাম্য দূর করার দাবি জোরালো করেছে। সেদেশের বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও জানাতে হবে।
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের আকস্মিক ধস নামার পরই এই প্রলয়কাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এর জেরে ভোতেকোশি নদীতে বিশাল জলরাশি আছড়ে পড়ে এবং ভয়াবহ গতিতে শহর ও গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন্যায় বহু বাড়ি, গাড়ি, রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটটি প্রধান দুর্গত জেলা থেকে দেহ উদ্ধারের জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ১,০০৩ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ানে, যেখানে ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নওয়ালপরাসি ইস্টেও ২১৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ চার হাজারের কাছাকাছি মানুষের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে এর মধ্যেই প্রায় ১২,০০০ মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রাস্তাঘাট ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকাগুলিতে ২১ হাজার তিনশোরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রসুয়া ও নুয়াকোটের মতো জেলাগুলিতে নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় নদীগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।