ছোট দেশে একাধিক টাইম জোন, আর বিশাল ভারত-চীনে মাত্র একটি ঘড়ি কেন? রহস্য জানলে চমকে যাবেন!

বিশ্বজুড়ে সময়ের হিসেব কষা হয় প্রধানত দ্রাঘিমা রেখা এবং টাইম জোনের ওপর ভিত্তি করে। পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বিভিন্ন দেশে সূর্যোদয় আলাদা সময়ে হলেও, টাইম জোন নির্ধারণের বিষয়টি কেবল ভৌগোলিক হিসেব-নিকেশের ওপর নির্ভর করে না; এর নেপথ্য রয়েছে রাজনীতি, প্রশাসন, বাণিজ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন সুবিধার বড় ভূমিকা। আর এখানেই সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে ভারত ও চীনের মতো বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের দেশগুলিতে।

ছোট দেশে একাধিক টাইম জোন, আর ভারত-চীনে কেন একটি? প্যাসিফিক মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কিরাবাতি কিংবা ফ্রান্সের মতো দেশের কথা ধরলে দেখা যাবে, আয়তনে ছোট বা দূরদূরান্তে দ্বীপ ছড়িয়ে থাকার কারণে সেখানে একাধিক টাইম জোন কার্যকর রয়েছে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো দেশও তাদের দূরবর্তী দ্বীপের জন্য আলাদা সময় মেনে চলে। অথচ, ভারতের মতো বিশাল দেশ— যেখানে পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমের গুজরাটের সূর্যোদয়ের সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবধান রয়েছে— সেখানে পুরো দেশ জুড়ে একটাই মাত্র সরকারি সময় অর্থাৎ ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ (IST) চালু রাখা হয়েছে। একই নিয়ম কঠোরভাবে বজায় রাখে প্রতিবেশী দেশ চীনও।

কেন এই একক টাইম জোন ব্যবস্থা? ১. প্রশাসনিক একরূপতা: ভারত ও চীনের মতো বিশাল রাষ্ট্রে রাজনৈতিক ঐক্য এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য একক সময় অত্যন্ত জরুরি। রেলওয়ে, বিমান চলাচল, ব্যাংক, স্কুল এবং সরকারি দপ্ততগুলি যদি আলাদা আলাদা সময়ে চলত, তবে জাতীয় স্তরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারত। ২. সমন্বয় ও সুবিধা: এক সময় সারা দেশে বজায় থাকলে কেন্দ্রীয় সরকারি আদেশ, যোগাযোগ এবং জাতীয় ব্যবসায় কোনো রকম বিভ্রান্তি তৈরি হয় না। ৩. রাজনৈতিক ও কেন্দ্রীয় শাসন: চীনের ক্ষেত্রে পুরো মূল ভূখণ্ডে শুধুমাত্র ‘বেইজিং টাইম’ মানা বাধ্যতামূলক। এর ফলে বিশাল দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা সরকারের পক্ষে অনেক বেশি সহজ হয়।

যদিও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে আলাদা টাইম জোন চালুর দাবি বহুবার উঠেছে, যাতে প্রাকৃতিক আলোর সঠিক ব্যবহার করা যায়, তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভ্রান্তি এড়াতে এখনও পর্যন্ত একক টাইম জোন ব্যবস্থাতেই অটল রয়েছে দেশ। আগামী দিনে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এই একক সময়ের ব্যবস্থাই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *