OBC সংরক্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! জরুরি স্বস্তি মেলেনি, শুনানি সোজা ১৭ সেপ্টেম্বর

ওবিসি (OBC) ক্রিমি লেয়ার সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরগামী মামলার শুনানিতে কেন্দ্রকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। গত ১১ মার্চ দেওয়া আদালতের একটি পূর্ববর্তী আদেশ স্পষ্ট করে অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন राहत বা স্বস্তির আর্জি জানিয়েছিল কেন্দ্র। তবে বিচারপতি পিএস নরসিমহা এবং বিচারপতি আর মহাদেவனின் ডিভিশন বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। এর ফলে আইনি লড়াইয়ে সাময়িকভাবে কোণঠাসা হতে হলো সরকারকে।
১১ মার্চের সেই রায় যা নিয়ে যত বিতর্ক: গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তার এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ওবিসি কোটার ক্ষেত্রে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণের জন্য কেবলমাত্র অভিভাবকদের বেতনভিত্তিক আয়কে একমাত্র মাপকাঠি করা যাবে না। আদালত সাফ জানিয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, পিএসইউ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাবা-মায়ের বেতন কেবল নির্দিষ্ট সীমার বেশি— এই যুক্তিতে তাঁদের সন্তানদের সংরক্ষণ বা ওবিসি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। বিচারপতির বেঞ্চ মনে করেছিল, এই ধরনের বেতনভিত্তিক বৈষম্য সংবিধানের ১৪, ১৫ এবং ১৬ নম্বর ধারায় প্রদত্ত সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
কেন বড় সংকটের আশঙ্কায় কেন্দ্র? গত ২৬ আগস্ট মামলার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের সামনে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, এই রায় যদি কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংশোধন বা রূপরেখা ছাড়া হুবহু কার্যকর করা হয়, তবে দেশজুড়ে তীব্র প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তাঁর যুক্তি ছিল, এর ফলে ওবিসি প্রার্থীদের পুরোনো ব্যাচগুলিকে নতুন করে নন-ক্রিমি লেয়ারে রূপান্তর করতে হবে। পাশাপাশি, আইএএস, আইপিএস, আইএফএস বা সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসের মতো উচ্চপদস্থ ক্যাডারদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন আনতে হবে, যা বাস্তবে করা অত্যন্ত জটিল।
কেন্দ্রের মতে, সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশ যদি পর্যাপ্ত নীতিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া বলবৎ হয়, তবে কেন্দ্র সহ দেশের ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ভর্তি প্রক্রিয়ায় এক দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা লাগবে। এছাড়া রেল, ব্যাংক, পোস্ট অফিস এবং আধা-সামরিক বাহিনীর মতো বড় মাপের নিয়োগকর্তাদের হাজার হাজার আবেদন ও মামলার মুখে পড়তে হবে। এখন সকলের নজর আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।