ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলে বীমা সংস্থার ক্লেইম রিজেক্ট? খাস কলকাতার আদালতের এই রায় না জানলে বড় ঠকবেন!

গাড়ি দুর্ঘটনায় চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বীমা কোম্পানিগুলি আর নিজেদের দায় এড়াতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের একটি সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র লাইসেন্স না থাকা বা একাধিক লাইসেন্স থাকার কারণ দেখিয়ে বীমা সংস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পারে না। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এইচডিএফসি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে পলিসিধারীকে ৩.৫ লক্ষ টাকা এবং মানসিক কষ্টের জন্য অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরো ঘটনাটি কী ছিল?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর পলিসিধারীর স্কোডা নিউ লরা অ্যাম্বিয়েন্টে ১.৮ টিএসআই গাড়িটি একটি বড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। গাড়িটি একটি সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে মেরামতের আনুমানিক খরচ প্রায় ৫.২৮ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়। এরপর পলিসিধারী বীমা সংস্থার কাছে ক্লেম দাখিল করলে কোম্পানি তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। কোম্পানির যুক্তি ছিল, দুর্ঘটনার সময় চালকের কাছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং নাগাল্যান্ড থেকে ইস্যু করা তাঁর দ্বিতীয় লাইসেন্সটি জাল। মোটরযান আইনের ৬ নম্বর ধারার লঙ্ঘন হয়েছে দাবি করে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি পুরো দাবি পরিশোধ করতে অস্বীকার করে।

কী জানাল রাজ্য ভোক্তা কমিশন?
ভোক্তা কমিশন জানিয়েছে, একাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বা লাইসেন্স সংক্রান্ত ত্রুটি মোটরযান আইনের পরিপন্থী হতে পারে এবং এর জন্য আইনি শাস্তির বিধানও রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র এই কারণে কোনো বীমা কোম্পানি পলিসিধারীর বৈধ দাবি খারিজ করতে পারে না। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, চালকের আইনি অপরাধ এবং গাড়ির মালিকের বীমা পলিসির শর্তাবলী সম্পূর্ণ দুটি আলাদা বিষয়। চালক আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই বীমা সংস্থাকে তাদের আর্থিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না।

কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
কমিশন বীমা কোম্পানিকে পলিসিধারীকে অবিলম্বে ৩.৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই টাকার ওপর বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। যদি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা না হয়, তবে সুদের হার বাড়িয়ে বার্ষিক ৯ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি, মানসিক হেনস্থার জন্য ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আইনি এই লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশের সাধারণ পলিসিধারীদের অধিকারের সুরক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *