প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা নাকি ৩০ মিনিটের কঠোর কসরত? ওজন কমাতে কোনটা আসলে বেশি কার্যকরী?

৩০ মিনিটের হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT) নাকি প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সেরা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বহু মানুষের মনে। অনেকেই ভাবেন কঠিন ব্যায়াম মানেই বেশি চর্বি গলবে, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে বিষয়টি অতটা সরল নয়। ম্যানিপাল হসপিটালস হোয়াইটফিল্ডের স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. আইয়াপ্পান ভি নায়ারের মতে, এই দুই ধরনের ব্যায়ামেরই আলাদা ভূমিকা রয়েছে এবং শরীর গঠনে উভয়ের সুফলই ভিন্ন।

HIIT-এর সুবিধা ও কার্যকারিতা
সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তীব্র ব্যায়ামের পর সামান্য বিরতি দিয়ে করা হয় HIIT। যাঁরা সময় কম পান কিন্তু কার্ডিওভাসকুলার বা হৃৎপিণ্ডের ফিটনেস দ্রুত উন্নত করতে চান, তাঁদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণ মাঝারি মানের ব্যায়ামের তুলনায় HIIT হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করে। কম সময়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষেত্রে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে এই ব্যায়াম বেশ ক্লান্তিকর হওয়ায় প্রতিদিন এটি করা সম্ভব বা সবার জন্য উপযোগী নয়।

১০ হাজার স্টেপ কি সত্যিই জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ হাজার কদমের লক্ষ্যমাত্রা জনপ্রিয় হলেও এটি কোনো কঠোর চিকিৎসাগত নিয়ম নয়। ল্যানসেট পাবলিক হেলথ-এর একটি সমীক্ষা বলছে, দিনে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ কদম হাঁটলেই স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুণ সুফল পাওয়া সম্ভব। তাই ১০ হাজার স্টেপ পূরণ করতে না পারলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন থেকে কিছুটা বেশি নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন। তাছাড়া সারাদিন ধরে টুকটাক হাঁটা বা সিঁড়ি ব্যবহারের মাধ্যমেও এই লক্ষ্য পূরণ করা যায়।

ওজন কমানোর লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
তীব্র কসরত মানেই বেশি ওজন কমবে—এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমানো নির্ভর করে সঠিক ডায়েট, ক্যালোরি ব্যালেন্স, ভালো ঘুম এবং ধারাবাহিকতার ওপর। HIIT যেমন অল্প সময়ে বেশি শক্তি খরচ করে শরীর গঠনে সাহায্য করে, তেমনই নিয়মিত হাঁটাও মেদ ঝরাতে সমানভাবে কার্যকরী।

তাহলে আপনার জন্য কোনটা সেরা?
বেশিরভাগ মানুষের জন্যই এই দুটির একটি বেছে নেওয়ার চেয়ে দুটির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। দৈনন্দিন সক্রিয় জীবনযাত্রার ভিত্তি হতে পারে নিয়মিত হাঁটা, আর তার সঙ্গে সপ্তাহে এক থেকে তিনটি HIIT সেশন যোগ করতে পারেন ফিটনেসপ্রেমীরা। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুবার স্ট্রেংথ ট্রেনিং করাও জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, নিখুঁত কোনো ম্যাজিক সংখ্যা বলে কিছু নেই। আপনার শরীর, ফিটনেস লেভেল এবং জীবনধারার সঙ্গে মানানসই যে রুটিন আপনি দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে পারবেন, সেটাই আপনার জন্য সেরা ব্যায়াম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *