সরকারি অফিসেই ধুন্ধুমার! দুই কর্মকর্তার কিল-চড়-লাথির ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোখ কপালে তুলবে সবার

বিহারের কাটিহার সদর আঞ্চলিক কার্যালয়ে খোদ সরকারি দপ্তরে দুই জোনাল অফিসারের মধ্যে হাতাহাতি ও শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দপ্তরের অন্দরে দুপক্ষের মারামারির একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জমির মিউটেশন বা নামপঞ্জিকরণ সংক্রান্ত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেলেও, ঘটনার আসল সত্যতা জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, দপ্তরে কাজ চলাকালীন সার্কেল অফিসার সোনু ভগত এবং অপর সার্কেল অফিসার সঞ্জয় ভার্মার মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই তর্কাতর্কি চরম আকার ধারণ করে এবং দুজনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি অফিসে কর্মরত অন্যান্য কর্মী ও সাধারণ মানুষের সামনে দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মারামারির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন কাটিহারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশুতোষ দ্বিবেদী। সরকারি দপ্তরে এ ধরনের শৃঙ্খলাহীনতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন করেছেন। রাজস্ব শাখার ইনচার্জের নেতৃত্বে এই বিশেষ দলটি ঘটনার নেপথ্য কারণ, পরিস্থিতি এবং অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত সার্কেল অফিসার সোনু ভগতকে ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগেও আদালতের আদেশ অমান্য করা সহ একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নিয়েছিল রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার বিভাগ। এমনকি ২০২২ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং অবৈধ চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কর্মীরা। বর্তমান এই মারামারির ঘটনার সঙ্গে তাঁর অতীত কোনো বিতর্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে এখন পুরো কাটিহার জুড়ে চলছে তীব্র গুঞ্জন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *