ভুটান থেকে ভারতে সোনা পাচারের ছক ভেস্তে দিল পুলিশ! জয়গাঁওয়ে ১২০ গ্রাম সোনা ও ২০ লক্ষ নগদ সহ ধৃত ৩

ভুটান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে সোনা পাচারের এক বড়সড় ছক বানচাল করে দিল পুলিশ। আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁওয়ে ভুটান গেট সংলগ্ন একটি গয়নার দোকানে গোপন সূত্রে হানা দিয়ে প্রায় ১২০ গ্রাম অবৈধ সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অভিযান থেকে নগদ প্রায় ২০ লক্ষ টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন ভুটানের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ভারতীয় দুই নাগরিকের নাম রবি শাহ ও মনীশ শাহ, দুজনেই জয়গাঁওয়ের স্থায়ী বাসিন্দা। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে ভুটানের নাগরিক ফুনরসো ওয়াঙ্গিকে। গোপন মারফত পুলিশের কাছে খবর ছিল যে, ভুটানের ওই বাসিন্দা নির্দিষ্ট সময়ে ভুটান গেটের কাছাকাছি একটি স্থানীয় গয়নার দোকানে সোনা বিক্রি করতে আসছেন। এই খবরের ভিত্তিতেই সোমবার তৎপরতার সঙ্গে জয়গাঁও এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ এবং সন্দেহভাজনদের আটক করে তল্লাশি শুরু করে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত সোনা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভুটান থেকে ভারতে পাচার করে এখানে গোপনে বিক্রির চক্রান্ত করা হয়েছিল। এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

দুই দেশের কর কাঠামোর ফারাক ও পাচারের লাভ:

বিশ্লেষকদের মতে, ভুটান থেকে ভারতে সোনা পাচারের নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ হলো দুই দেশের কর কাঠামোর মধ্যকার পার্থক্য। ভুটানে সোনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাস্টমস ডিউটি ও করের বিধান থাকায় সেটিকে পুরোপুরি ‘ট্যাক্স-ফ্রি গোল্ড’ বাজার বলা চলে না, বিশেষ করে ২০২৬ সাল থেকে সেখানে জিএসটি (GST) ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে যাত্রীরা বিদেশ থেকে ফেরার সময় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সোনা আনলে ছাড়ের হারে ৬ শতাংশ কর দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা কেবল নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনা বৈধ সোনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করা সোনার ক্ষেত্রে এর কোনো অবকাশ নেই।

ফলে ভুটান ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারদর, আমদানি শুল্ক এবং করের পরিমাণের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়, সেটিই চোরাকারবারীদের কাছে আর্থিক লাভের বড় সুযোগ করে দেয়। যদিও উদ্ধার হওয়া ১২০ গ্রাম সোনার ক্ষেত্রে ঠিক কত টাকার বেআইনি লাভের অঙ্ক লুকিয়ে ছিল, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সোনার সঠিক বিশুদ্ধতা, ভুটানে তার ক্রয়মূল্য, ভারতের বর্তমান বাজারদর এবং প্রযোজ্য শুল্কের হিসাবের ওপর। পুলিশ জানিয়েছে, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরেই এই পাচারের আসল অর্থনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ১২০ গ্রাম সোনার মূল উৎস কোথায়, এই সোনা ঠিক কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর নেপথ্যে আরও কোনো প্রভাবশালী পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *