ঘুমের মধ্যে মুখ হা করে শ্বাস নেন? অজান্তেই কোন মারাত্মক ডেকে আনছেন শরীরে?

ঘুমের মধ্যে মুখ হা করে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অনেকেরই এমন ভুল ধারণা থাকে যে, বাতাস নাক দিয়ে যাক বা মুখ দিয়ে, শরীরে তো পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করলেই হলো। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণাপত্র সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহের নাকের গঠন তৈরিই হয়েছে শ্বাস নেওয়ার জন্য, আর মুখের মূল কাজ হলো খাবার খাওয়া ও কথা বলা।
আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন এবং একাধিক মেডিকেল জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, নাকের ভেতরের মিউকাস ও ক্ষুদ্র লোম বাইরের ধূলিকণা ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আটকে দিয়ে বাতাসকে ফিল্টার ও আর্দ্র করে। এর পাশাপাশি নাকের সাইনাসে তৈরি হয় নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে এই গ্যাস ফুসফুসে পৌঁছে রক্তে প্রায় ১০ থেকে ১৮ শতাংশ বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এই প্রাকৃতিক ফিল্টার কিংবা নাইট্রিক অক্সাইডের কোনো সুবিধাই শরীরে মেলে না।
দীর্ঘদিন ধরে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরে একাধিক নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। এর ফলে মুখমণ্ডল ও দাঁতের গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ খোলা রাখলে জিভের স্বাভাবিক অবস্থান নিচে নেমে যায়, ফলে মুখের তালু সরু হয়ে যায়, মুখ লম্বাটে দেখায় এবং দাঁত উঁচু-নিচু বা বাঁকাভাবে গজায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অ্যাডেনয়েড ফেসিজ’ নামে পরিচিত। এছাড়া সারারাত মুখ খোলা থাকলে মুখের লালারস শুকিয়ে যায়, যা ক্যাভিটি, মুখের দুর্গন্ধ এবং মাড়ির ইনফেকশন দ্রুত বাড়িয়ে তোলে।
অন্যদিকে, রেসপিরেটরি মেডিসিন জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে শ্বাসনালীর পথ সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং নাক ডাকার তীব্র সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ঘুম ঠিকমতো না হওয়ায় সারা দিন চরম ক্লান্তি ও মাথা ঝিমঝিম করার পাশাপাশি রক্তে নিয়মিত অক্সিজেনের ঘাটতি হার্টের ওপর চাপ বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। পাশাপাশি কোনো প্রাকৃতিক ফিল্টার ছাড়া সরাসরি শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালীতে ঢোকার কারণে টনসিল ফোলা ও অ্যালার্জির প্রকোপও বহুগুণ বেড়ে যায়। রাতে যদি প্রায়ই মুখ শুকিয়ে ঘুম ভেঙে যায় কিংবা নাক ডাকার সমস্যা থাকে, তবে এই বিষয়টিকে অবহেলা না করে অবিলম্বে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।