চোখের জল বাঁধ মানল না! মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মানসী পারেখ যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন। মুম্বই বিমানবন্দরে পা রাখতেই আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সামনে দাঁড়িয়ে স্বামী পার্থিব গোহিল এবং ছোট্ট মেয়ে নির্ভী। বিমানবন্দর চত্বরেই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন অভিনেত্রী। গত কয়েকটি দিন তাঁর জীবনে ঠিক কী চরম মানসিক ও শারীরিক ঝড় বয়ে গিয়েছে, তাঁর সেই কান্না যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ দিচ্ছিল।
সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কৈলাশ মানসরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন মানসী। কিন্তু গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত জুড়েই নেমে আসে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় একের পর এক এলাকা এবং ধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সমস্ত রাস্তাঘাট। তিব্বত থেকে ফেরার পথে প্রকৃতির সেই রুদ্ররূপ খুব কাছ থেকেই দেখেছেন অভিনেত্রী। টানা কয়েক দিন কার্যত চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে নিরাপদে মুম্বইয়ে নিজের পরিবার ও বাড়িতে ফিরেছেন তিনি।
বিমানবন্দরে যখন মানসী এসে নামেন, তখন তাঁর স্বামী ও মেয়ে তাঁকে বরণ করার জন্য ফুলের মালা হাতে হাজির ছিলেন। কিন্তু এত দিন পর বাড়ির প্রিয় মানুষগুলোকে সামনে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি অভিনেত্রী। ঘরে ফেরার সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মানসী। তিনি জানিয়েছেন, চিন থেকে বেরিয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছানোর এই গোটা লড়াইটি কোনো যুদ্ধ জয়ের চেয়ে কম ছিল না। চিনের নিয়ালাম শহরে বিশাল ধসের কারণে বাসের ভেতরেই টানা চার ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছিল তাঁদের। সেখান থেকে প্রায় ৪০ মাইল পথ বাসে পাড়ি দিয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু সেখানেও অপেক্ষা করছিল আর এক বিপদ। ধসের কারণে সম্পূর্ণ রাস্তা বন্ধ থাকায় উপায় না দেখে ভাঙাচোরা রাস্তা বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে পার হন এবং ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য বাসে ওঠেন। এরপর কাঠমান্ডু পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টার এক ঝাঁকুনি ভরা ভয়ংকর বাস যাত্রা শেষ করে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। মানসীর কথায়, এই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া ভয়ংকর পথ পেরোনো কেবল একটাই কারণে সার্থক হয়েছে—সুস্থভাবে নিজের বাড়ি ও পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারা।
সরকারি হিসাব ও উদ্ধারকাজের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত এলাকার এই হড়পা বানের জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং এখনও প্রায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রকৃতির এমন মারাত্মক তাণ্ডব ও মৃত্যুর উপত্যকা পেরিয়ে অবশেষে সুস্থ শরীরে প্রাণে বেঁচে ঘরে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী।