সংরক্ষণ নিয়ে এনডিএ-তে তুলকালাম! পদত্যাগ নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জিতন রাম মাঝি ও চিরাগ পাসোয়ান

বিহারের রাজনৈতিক ময়দানে এনডিএ শিবিরের অন্দরে থাকা দুই প্রভাবশালী দলিত মুখের তীব্র কোন্দল এখন শাসক শিবিরের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঝি এবং লোক জনশক্তি পার্টির (LJP) প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান-এর মধ্যে শুরু হওয়া কথার লড়াই এখন সরাসরি একে অপরের পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়িয়েছে। উভয় নেতাই কেন্দ্রে মোদি সরকারের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, রাজ্যের প্রভাবশালী দলিত ভোটব্যাঙ্কের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার এই রাজনৈতিক লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
কেন শুরু হলো এই দ্বন্দ্ব?
মূলত সংরক্ষণ নীতিতে ‘ক্লিমিলিয়ার’ এবং উপ-শ্রেণীকরণ বা কোটার ভেতরে কোটা সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরেই এই উত্তাপের সূত্রপাত।
-
চিরাগের কড়া দাবি: চিরাগ পাসোয়ান সরাসরি জিতন রাম মাঝি এবং তাঁর পুত্র তথা বিহারের মন্ত্রী সন্তোষ কুমার সুমনের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁর যুক্তি, যদি মাঝি পরিবার উপ-শ্রেণীকরণের পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে বহুবার সংরক্ষণের সুবিধাভোগী হওয়ার নৈতিক লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।
-
পাল্টা হুঙ্কার মাঝি শিবিরের: এই মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়ে জিতন রাম মাঝি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে, যদি চিরাগের গরিব ও অতি-বঞ্চিত দলিতদের প্রতি প্রকৃত দরদ না থাকে, তবে তিনিই যেন আগে পদত্যাগ করেন। এরপর তাঁর ছেলেও একই সুরে জানান, চিরাগ ইস্তফা দিলেই তাঁরাও পদত্যাগ করতে পিছপা হবেন না।
চিন্তায় বিজেপি ও সমাধান খোঁজার চেষ্টা:
বিহারের রাজনীতিতে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ দলিত ভোট অত্যন্ত নির্ণায়ক। আর এর ভেতরে ‘পাসওয়ান বনাম মহাদলিত’-এর রাজনৈতিক সমীকরণ বরাবরই বেশ স্পর্শকাতর। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ-র প্রধান শরিক দল হিসেবে বিজেপি কোনো বড় অসন্তোষ বা ফাটল তৈরি হোক তা একেবারেই চাইছে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে ইতিমধ্যে দুই নেতাকেই প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পারস্পরিক মতভেদ দূর করতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণগুলিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।