ফ্যান্টা থেকে ম্যাগি—এবার ফুড প্যাকেটে বড় লাল দাগ! পছন্দের খাবার কেনার আগে কোন ভয়ঙ্কর নিয়ম আসছে জানেন?

দোকান থেকে চিপসের প্যাকেট, বিস্কুটের কৌটো কিংবা কোল্ড ড্রিংকসের বোতল কেনার সময় আর গায়ে লেখা ছোট ছোট ফন্ট বা পুষ্টির মাপকাঠি পড়ার ফুরসত কার আছে? কিন্তু খুব শীঘ্রই আপনার এই অভ্যাস পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। কারণ ভারত সরকার এবং ফুড সেফটি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI) প্যাকেজড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের ঠিক সামনেই একটি লাল রঙের সতর্কতামূলক হেক্সাগন (ছয় কোণা) চিহ্ন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে কোনো খাবারে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি, লবণ বা ফ্যাট থাকলে তা দেখেই এক পলকে চিনে নেওয়া সম্ভব হবে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
ক্রমবর্ধমান মুটিয়ে যাওয়া (Obesity), ডায়াবেটিস এবং বিভিন্ন জীবনশৈলীজনিত রোগ বা লাইফস্টাইল ডিজিজ নিয়ে দেশজুড়ে যেভাবে উদ্বেগ বাড়ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রশাসন। FSSAI-এর সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা এই নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, কোনো খাবারে যদি নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি ফ্যাট, চিনি বা সোডিয়াম থাকে, তবে ক্রেতাদের সতর্ক করতে প্যাকেটের সামনেই ‘জ্বালবে’ এই লাল সতর্কতা। ICMR-NIN (2024)-এর ডায়েট গাইডলাইনের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই মাপকাঠিগুলো তৈরি করা হয়েছে।
লাল রঙের নিশানা পড়ার মূল শর্ত ও মাপকাঠি:
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, খাবারগুলিতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পুষ্টি উপাদান থাকলেই এই লাল দাগ বা লেবেল বাধ্যতামূলক করা হবে:
-
অতিরিক্ত চিনি (Added Sugar): প্রতি ১০০ গ্রাম কঠিন খাবারে ৩ গ্রামের বেশি যোগ করা চিনি থাকলেই তা রেড জোনে পড়বে (তরল খাবারের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ১০০ মিলিলিটারে ২ গ্রামের বেশি)।
-
লবণ বা সোডিয়াম (Salt): প্রতি ১০০ গ্রামে ০.৬২৫ গ্রামের বেশি লবণ থাকলেই বিপদ সঙ্কেত দেখা যাবে।
-
অতিরিক্ত ফ্যাট (Added Fat): ১০০ গ্রামে ৪.২ গ্রামের বেশি ফ্যাট থাকলে তা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হবে।
খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির আপত্তি বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা:
অবশ্য সরকারের এই পদক্ষেপে যারপরনাই চড়েছে বড় বড় ফুড কোম্পানিগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ। কোকা-কোলা, নেসলে-র মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলির দাবি, শুধু প্যাকেটে একটা লাল চিহ্ন বসিয়ে দিলেই মানুষের খাওয়ার অভ্যাস রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্তও হতে পারেন। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট যুক্তি—গ্রাহকদের সঠিক ও স্পষ্ট তথ্য জানার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। প্যাকেটের পেছনে ছোট হরফে লুকিয়ে না রেখে সেই তথ্য সামনে বড় করে দেখানোই উচিত।
সবমিলিয়ে, খুব শীঘ্রই হয়তো আপনার দৈনন্দিন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে চলেছে, যেখানে লাল রঙের সতর্কবার্তা দেখেই আপনাকে বেছে নিতে হবে আপনার ও আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যকর খাবার।