বিচার ব্যবস্থায় বড় মোড়! লোয়ার কোর্টের কার্যক্রমে আকছার স্থগিতাদেশ নয়, হাই কোর্টগুলিকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!

দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বড়সড় ও কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সাধারণত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হলে হাই কোর্টগুলি যেভাবে নিয়মিতভাবে নিম্ন আদালতে চলমান মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ (Stay) দিয়ে দেয়, সেই সাধারণ প্রবণতাকে এবার সরাসরি ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে এই ধরনের স্থগিতাদেশ দেওয়া উচিত নয়।

বম্বে হাই কোর্টের রায় বাতিল

এই শুনানির অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চের একটি ১১৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ যৌথ রায় খারিজ করে দিয়েছে। সিভিস প্রসিডিউর কোড (CPC)-এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী রিভিশন পিটিশন মঞ্জুর করা এবং অর্ডার VII রুল ১১-এর অধীনে একটি মামলা খারিজ করার বম্বে হাই কোর্টের সিদ্ধান্তকে একহাত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, হাই কোর্ট নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে একেবারে নিম্ন আদালত বা ট্রায়াল কোর্টের ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছিল, যা আইনগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

ঠিক কী ছিল পুরো মামলাটি?

মূলত এক ব্যক্তি প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করে ২০১৫ ও ২০১৭ সালের দুটি সেল ডিড বা বিক্রয় দলিলকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানান। পাশাপাশি বিবাদীদের দখলকে বেআইনি দাবি করে ক্ষতিপূরণ ও লোকসানের মামলা ঠোকেন। মামলা দায়েরের পরেই প্রতিবাদীরা সিপিসি-র অর্ডার ৭ রুল ১১ অনুযায়ী মামলাটি খারিজের আবেদন জানায়। যদিও ট্রায়াল কোর্ট সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছিল যে, প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব নয় এবং নির্দিষ্ট সময়েই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার ফলে এখন থেকে দেশের সমস্ত উচ্চ আদালতগুলিতে রিভিশন পিটিশন এবং ট্রায়াল স্থগিত রাখার বিষয়ে আরও বেশি সংযত ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছে আইনি মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *