রাতের অন্ধকারে জানলা দিয়ে ঢুকে নার্সকে খুন ও ধর্ষণ! পুলিশি জেরায় সামনে এল শিহরণ জাগানো তথ্য

ডিউটি শেষ করে নিজের ঘরে ফেরাটাই কাল হয়েছিল এক তরুণী নার্সের জন্য। তেলাঙ্গানার রাঙ্গারেড্ডি জেলার টুক্কুগুডা এলাকায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এক তরুণী নার্সকে প্রথমে গলা টিপে খুন এবং তারপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ওই যুবতী কোথাগুডেম জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং গত সাত মাস ধরে রাঙ্গারেড্ডি জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি হাসপাতালের কাছাকাছি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত একটি কোয়ার্টার বা রুমে একা থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে ডিউটি শেষ করে তিনি নিজের ঘরে ফেরেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত সানা উল্লাহ খান নামের এক ব্যক্তি বিহারের বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে হায়দরাবাদে থাকত এবং টুক্কুগুডায় ওই নার্সের ঘরের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে বাইক মেকানিকের কাজ করত। অভিযুক্তের স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত দীর্ঘ দিন ধরে ওই নার্সের ওপর কুদৃষ্টি রাখছিল এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

ঘটনার দিন রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা সানা উল্লাহ ওই নার্সকে একা ফিরতে দেখে। এরপর মাঝরাতে সে জানলা দিয়ে ওই তরুণীর ঘরে প্রবেশ করে। ঘুম ভেঙে যাওয়ায় যুবতী চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত তাঁর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তরুণী চরম বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গলা টিপে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় এবং মৃত্যুর পর তাঁর ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ। অপরাধ সংঘটিত করার পরই সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পরের দিন শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে কাজে যোগ না দেওয়ায় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরা তাঁকে বারবার ফোন করতে শুরু করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না মেলায় তাঁরা মহেশ্বরামে থাকা ওই নার্সের মাসিকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে সহকর্মীরা ও প্রতিবেশীরা যখন ওই ঘরে গিয়ে পৌঁছান এবং জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন, তখন তরুণীর lifeless দেহ মেঝেতে পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে সামসাবাদের ডিসিপি রাজেশ ও পাহাড়ি শরিফ থানার ইন্সপেক্টর লক্ষ্মীনারায়ণ রেড্ডিসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত জাল বিছায় এবং রাজ্য থেকে পালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অভিযুক্ত সানা উল্লাহ খানকে পাকড়াও করে। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে দফায় দফায় জেরা করে অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বের করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী সীতাক্কা এই ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিভি আনন্দকে ফোন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবার যাতে দ্রুত এবং কঠোর বিচার পায়, সেই বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় মৃতার পরিবার এবং স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা ওসমানিয়া হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানান। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে। এই ঘটনার পর আবারও কর্মরতা নার্স ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *