৫ মিনিটের তফাতে এড়ালেন নিশ্চিত মৃত্যু! নেপালের প্রলয়ংকরী হড়পা বান থেকে কীভাবে প্রাণ বাঁচল বাঙালির?

মাত্র কয়েক ঘণ্টার এদিক-ওদিক। আর তাতেই সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন বর্ধমানের বিপ্লব হাজরাসহ বাংলার একদল পুণ্যার্থী। নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং প্রলয়ংকরী হড়পা বাণের কবলে পড়েও ঈশ্বরের কৃপা ও ভাগ্যের জোরে একেবারে অক্ষত শরীরে ঘরের মাটিতে ফিরেছেন তাঁরা। ভিসা পাওয়ার সামান্য দেরিই যে তাঁদের জীবনে ‘শাপে বর’ হয়ে দেখা দিয়েছিল, তা এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছেন তাঁরা।

ভিসা পাওয়ার সেই ছোট্ট দেরিই বাঁচাল প্রাণ

গত ২১ আগস্ট বাংলা থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ৫২ জন পুণ্যার্থীর একটি দল, যার মধ্যে ২২ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২২ আগস্ট কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর ২৩ আগস্ট পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ভিসা হাতে পেতে কিছুটা দেরি হওয়ায় ২৪ ও ২৫ আগস্ট কাঠমান্ডুতেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের।

অবশেষে ২৬ আগস্ট ভিসা পাওয়ার পর তাঁরা গন্তব্যের দিকে রওনা হন। কিন্তু ঠিক পথেই ঘটে বিপত্তি! অভিজ্ঞ বাঙালি গাইডের বুদ্ধিমত্তায় সঠিক সময়ে গাড়ি থামিয়ে দেওয়ায় তাঁরা বেঁচে যান। কারণ ঠিক একটু এগোলেই একটি ব্রিজের কাছে ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো তাঁদের।

চোখের সামনে গ্রাস করছিল ধ্বংসলীলা

যে এলাকায় তাঁরা পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে হঠাৎই নেমে আসে প্রবল হড়পা বান। চোখের সামনে পাহাড় থেকে গাছপালা ভেঙে পড়া, মাটির ধস, কাদা জলের তীব্র স্রোত এবং প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষের ছোটাছুটির সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন পুণ্যার্থীরা। মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটের ব্যবধানে তাঁরা ওই সেতু পার হওয়া থেকে পিছিয়ে ছিলেন। প্রশাসনের তৎপরতা এবং রাজ্য সরকারের ক্রমাগত যোগাযোগের পাশাপাশি নেপাল পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গত ২৮ আগস্ট তাঁদের ফেরার যাত্রা শুরু হয়।

অবশেষে মিথিলা এক্সপ্রেসে চেপে রবিবার ভোরে সুস্থ ও নিরাপদে বর্ধমানে ফেরেন বিপ্লববাবু ও অন্যান্যরা। চোখের সামনে নরকদর্শন করে এসে এখন কেবল নিজেদের ভাগ্য এবং মহাদেবের কৃপাকেই বারবার ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এই পুণ্যার্থীরা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রকৃতির এমন এক ভয়াবহ রূপ কাছ থেকে দেখার পর এই বেঁচে ফেরাকে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস বলেই মনে করছেন বাংলার এই পুণ্যার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *