পিপিএফ (PPF) থেকে বেশি রিটার্ন পাওয়ার গোপন ট্রিকস! এক ধাক্কায় লাখ লাখ টাকা লাভ করতে আজই জেনে নিন এই নিয়ম

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF-এ বিনিয়োগ নিরাপদ এবং নিশ্চিত রিটার্নের জন্য দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। বর্তমানে এই স্কিমে সরকার ৭.১ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দিয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, পিপিএফ অ্যাকাউন্টে ঠিক কখন এবং কীভাবে টাকা জমাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনার ফাইনাল রিটার্নের পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে। সামান্য কিছু আর্থিক কৌশল জানা থাকলে ১৫ বছরের মেয়াদে অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব।

পিপিএফ সুদের হিসাবের নিয়ম

পিপিএফ-এর সুদের হিসেব প্রতি মাসের ৫ তারিখ এবং মাসের শেষ তারিখের মধ্যে থাকা সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে ধরা হয়। এই কারণে বিনিয়োগের পদ্ধতি আপনার রিটার্নে বড় ফারাক গড়ে দেয়:

  • এককালীন বিনিয়োগ: আপনি যদি অর্থবর্ষের শুরুতেই, অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ এপ্রিলের মধ্যে পুরো ১.৫ লাখ টাকা একসঙ্গে জমা করে দেন, তবে আপনি সারা বছরের জন্য সুদ পেয়ে যাবেন।

  • মাসিক বা কিস্তিতে বিনিয়োগ: অন্য দিকে, আপনি যদি প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে টাকা জমান, তবে সুদের হিসেবে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়।

১৫ বছরের মেয়াদে কোথায় কত রিটার্ন? (হিসেব একনজরে)

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারী ১৫ বছরে মোট ২২.৫ লাখ টাকা জমা করলেও, টাকা জমানোর নিয়মের পার্থক্যে তহবিলের পরিমাণে বিরাট তফাত দেখা যায়:

১. একসঙ্গে ৫ এপ্রিলের মধ্যে ১.৫ লাখ টাকা জমা করলে: ৭.১% সুদে ১৫ বছর শেষে আপনার মোট তহবিল দাঁড়াবে প্রায় ৪০.৭ লাখ টাকা। ২. প্রতি ৬ মাসে ৭৫,০০ টাকা করে জমা করলে: ১৫ বছর শেষে সেই অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ৪০.১ লাখ টাকা। ৩. প্রতি তিন মাস অন্তর ৩৭,৫০০ টাকা করে জমা করলে: ১৫ বছর শেষে সুদে-আসলে আসবে প্রায় ৩৯.৮ লাখ টাকা। ৪. প্রতি মাসে ১২, দায়িত্বে ৫০০ টাকা করে জমা করলে: ১৫ বছর শেষে আপনার মোট তহবিল হবে প্রায় ৩৯.৫ লাখ টাকা

অর্থাৎ, পরিসংখ্যান পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে অর্থবর্ষের শুরুতে একসঙ্গে পুরো টাকা জমা করলে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তাই সামান্য সচেতনতাই আপনার পিপিএফ বিনিয়োগকে আরও লাভজনক করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *