১৩০ বছর ধরে চলছে এই প্রথা! মিষ্টির বদলে কেন দেবতার উদ্দেশে দেওয়া হয় সিগারেটের প্যাকেট?

ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে বহু অদ্ভুত ও অলৌকিক বিশ্বাসের মন্দির। কোথাও দেবতাকে দেওয়া হয় চরণামৃত, কোথাও বা ভোগ হিসেবে মেলে নুডলস বা মিষ্টি। কিন্তু দেবতার সামনে প্রদীপ বা ধূপকাঠির বদলে যদি দেওয়া হয় জ্বলন্ত সিগারেট? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, গুজরাটের সুরত শহরে গত ১৩০ বছর ধরে চলে আসছে ঠিক এই অদ্ভুত প্রথা!

সুরতের রহস্যময় ‘ভূত মামা’ মন্দির

সুরতের আথওয়ালাইনস এলাকার আদর্শ সোসাইটিতে অবস্থিত এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভূত মামা মন্দির’ নামে পরিচিত। এখানে পূজিত হন বাঞ্জারা ভূত মামা। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি এই এলাকার একজন রক্ষাকর্তা বা অভিভাবক দেবতা। লোককথা অনুযায়ী মন্দিরটির বয়স ১২৫ থেকে ১৫০ বছরেরও বেশি।

কিন্তু কেন দেবতাকে নিবেদন করা হয় সিগারেট?

সাধারণত মন্দিরে পুজো দিতে গেলে ভক্তরা ফল, মিষ্টি বা নারকেল নিয়ে যান। কিন্তু এই মন্দিরের চিত্রটি একেবারেই আলাদা। এখানে ভক্তরা পকেটে করে নিয়ে আসেন সিগারেটের প্যাকেট!

  • ভক্তরা সরাসরি সিগারেটের প্যাকেট দেবতার সামনে উৎসর্গ করেন।

  • অনেকে আবার সিগারেটটি নিজে জ্বালিয়ে সোজা দেবতার বিগ্রহের সামনে রেখে দেন।

  • স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, এই ধোঁয়া ও জ্বলন্ত সিগারেটের মাধ্যমে মনের গোপন ইচ্ছা ও প্রার্থনা সরাসরি ‘ভূত মামা’র কাছে পৌঁছে যায়।

মিলবে মনের ইচ্ছা পূরণ ও সমস্যার সমাধান!

বিশেষ করে দাম্পত্য সমস্যা, বিয়ের সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা কর্মক্ষেত্রের আটকে থাকা কাজ দ্রুত মেটাতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই মন্দিরে। ভক্তদের দাবি, নিষ্ঠা ভরে সিগারেট নিবেদন করে সমস্যা জানালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার পথ খুলে যায়।

সময়ের সাথে সাথে সুরত শহরের চেহারা বদলেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্রে। তবে বদলায়নি এই এক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য। সুরতের এই ‘ভূত মামা মন্দির’ কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং লোকবিশ্বাস, কৌতুহল ও মানুষের অগাধ আস্থার এক অদ্ভুত অনন্য নিদর্শন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *