কয়েন থেকে নেইল কাটার! ১৬ বছরের কিশোরের পেট থেকে বের হলো আস্ত ‘লোহার দোকান’, চিকিৎসকরাও তাজ্জব!

পেটের ভিতর যেন আস্ত এক লোহার গুদাম! তামিলনাড়ুর তিরুভান্নামালাইয়ে ঘটে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চিকিৎসকরাও হতবাক হয়ে গেছেন। ১৬ বছরের এক কিশোরের পেট থেকে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মোট ৪৩টি ধাতব বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২৩টি কয়েন, নেইল কাটার, হেয়ার পিন এবং চেনের মতো মারাত্মক জিনিসপত্র। বর্তমানে ওই কিশোর সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত এবং সুস্থ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র পেট ব্যথা ও বমির সমস্যায় ভুগছিল তিরুভান্নামালাইয়ের আয়্যামপালায়াম গ্রামের ওই ১৬ বছরের কিশোর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার মা তাকে থানদারামপাট্টু রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। পেটের স্ক্যান করার পরই আসল রহস্য সামনে আসে— কিশোরের পেটের ভেতরে প্রচুর ধারালো ও ধাতব বস্তু জমা হয়ে রয়েছে।

মাঝরাতে জরুরি অস্ত্রোপচার

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আর দেরি করেননি। রোগীর পেট ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করায় গত শুক্রবার মাঝরাতেই জরুরি ভিত্তিতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডেকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে।

কিশোরের পেট থেকে যা যা উদ্ধার হয়েছে:

  • ৫ ও ১০ টাকার ২৩টি রুপোর কয়েন

  • ১৫টি হেয়ার পিন

  • ১টি নেইল কাটার

  • ২টি মেটালিক চেন

  • ৩টি পেরেক

  • ১টি মাদুলি

কীভাবে পেটে গেল এত কিছু?

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা কিশোরের মায়ের কাছে জানতে চান যে সে কীভাবে এসব জিনিস গিলল। তখন মা জানান, ছেলেটি প্রায়ই তার জিনিসপত্র যেমন নেইল কাটার বা চেন হারিয়ে ফেলত। চিকিৎসকদের ধারণা, মানসিক বা অন্য কোনো অভ্যাসের বশে কিশোর অজান্তেই ধীরে ধীরে এই ধাতব বস্তুগুলো গিলে ফেলত।

পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে। ধারালো বস্তুগুলো পেটের ভেতরে আর কোনো বড় ধরনের ক্ষতি করার আগেই সময়মতো তা বের করে নেওয়ায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই কিশোর। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *