স্কিম একই, অথচ রিটার্নে আকাশ-পাতাল তফাৎ! এই ছোট্ট ট্রিক না জানলে বড় লোকসানে পড়বেন

আপনি কি মিউচুয়াল ফান্ডে (Mutual Funds) টাকা জমানোর কথা ভাবছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে বিনিয়োগের সময় আপনি প্রায়শই দুটি অপশন দেখতে পাবেন— একটি ‘ডাইরেক্ট’ (Direct) এবং অন্যটি ‘রেগুলার’ (Regular)। আপাতদৃষ্টিতে দুটোকে একই রকম মনে হতে পারে, কারণ আপনার টাকা একই ফান্ডে যায় এবং ফান্ড ম্যানেজারও একই থাকেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুটির রিটার্নে বড় ফারাক দেখা যায়। এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে খরচ এবং কমিশনের মারপ্যাঁচে।
ডাইরেক্ট ও রেগুলার প্ল্যানের মূল তফাৎ:
সহজ কথায় বলতে গেলে, রেগুলার প্ল্যানে বিনিয়োগ করার জন্য ব্যাংক, এজেন্ট বা কোনো মিউচুয়াল ফান্ড পরিবেশকের সাহায্য নিতে হয়। এর বিনিময়ে ওই পরিবেশক বা এজেন্টকে কমিশন দিতে হয়, যা মূলত ফান্ডের মোট খরচের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর ফলে রেগুলার প্ল্যানের ‘এক্সপেন্স রেশিও’ বা পরিচালনা খরচ কিছুটা বেশি হয়। অন্যদিকে, ডাইরেক্ট প্ল্যানে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা থার্ড-পার্টি থাকে না, ফলে কোনো কমিশনও দিতে হয় না। এর জেরে ডাইরেক্ট প্ল্যানের খরচ কম হয় এবং এর এনএভি (NAV) বা প্রতি ইউনিটের দাম রেগুলারের তুলনায় বেশি থাকে।
কম খরচে কীভাবে বড় লাভ?
শুরুতে এই খরচ বা সুদের হারের ১ শতাংশ বা ০.৫ শতাংশের তফাৎ খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ১০, ১৫ বা ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) জাদুতে এই সামান্য তফাতই আপনার পকেটে লাখ লাখ টাকার পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
কোনটি আপনার জন্য সেরা?
-
ডাইরেক্ট প্ল্যান: আপনার যদি বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে এবং নিজের পোর্টফোলিও নিজেই পরিচালনা করতে পারেন, তবে কম খরচে বেশি রিটার্নের জন্য ডাইরেক্ট প্ল্যান আপনার জন্য আদর্শ।
-
রেগুলার প্ল্যান: আপনি যদি নতুন বিনিয়োগকারী হন এবং ফান্ড চয়ন বা ঝুঁকি বুঝতে কোনো পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য চান, তবে রেগুলার প্ল্যান বেছে নিতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন, কেবল বেশি রিটার্ন দেখে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমা বিচার করেই সঠিক পদক্ষেপ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।