কেউ ৯০০ গ্রাম, কেউ আবার ১২০০! মালদায় শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য

মালদায় ১০ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক বিস্ফোরক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মৃত শিশুদের বেশিরভাগেরই ওজন অত্যন্ত কম ছিল এবং বহু ক্ষেত্রেই প্রসূতিরা ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কী বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, গত পরশুই এই ঘটনার বিষয়ে তলব করা হয়েছিল এবং ইতিমধ্যেই বিস্তারিত তদন্ত ও অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “১০ জনের মধ্যে ৯ জন শিশু মালদা হাসপাতালে নয়, বাইরে থেকে এসেছিল। যার মধ্যে একটি মালদা জেলা এবং অন্যটি মুর্শিদাবাদের। এই সমস্ত ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি প্রচুর প্রসূতি মায়েদের বয়স অত্যন্ত কম, অর্থাৎ তাঁরা নাবালিকা। নাবালিকা প্রসূতি মায়েদের শরীর ও দেহই সেভাবে তৈরি হয়নি, তাঁদের নিজেদের ওজনেরই কোনো ঠিক নেই।”
‘লো বার্থ ওয়েট’ বা কম ওজনের সমস্যা:
শিশুদের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রিপোর্টে প্রতিটি শিশুর নামের পাশেই ‘LBW’ অর্থাৎ ‘লো বার্থ ওয়েট বেবি’ (Low Birth Weight Baby) লেখা রয়েছে। বাচ্চাদের ওজন ছিল অত্যন্ত কম—কেউ ৯০০ গ্রাম, কেউ ১২০০ গ্রাম, তো কেউ আবার দেড় কিলো। অথচ একটি সুস্থ নবজাতকের সর্বনিম্ন ওজন আড়াই কিলো হওয়া উচিত। রোগীরা অত্যন্ত সংকটজনক ও খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বক্তব্য কোনো অজুহাত দেওয়ার জন্য নয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর একটিও শিশুর মৃত্যু না হয়, তার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।