তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আসলে বাংলাদেশি নাগরিক! চাঞ্চল্যকর অভিযোগে শোরগোল মালদায়

শাসকদলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। মালদার কালিয়াচকের তিন নম্বর ব্লকের গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চেমারি বিবি আদতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক কংগ্রেস সদস্য। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশও জানিয়েছে যে ওই নারী অতীতে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
অভিযোগ ও বিতর্কের সূত্রপাত:
কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণ মণ্ডলের অভিযোগ, চেমারি বিবির বাবা একসময় ভারতীয় নাগরিক থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশে চলে যান এবং সেখানেই পরিবার গড়ে তোলেন। তাঁর দাবি, প্রায় কুড়ি বছর আগে অর্থাৎ ২০০৬ সাল নাগাদ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন চেমারি। এ দেশে এসে বিয়ে করার পাশাপাশি তিনি কীভাবে ভোটার কার্ডে নাম তুললেন এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের টিকিটে জিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিডিও এবং পুলিশ সুপারের কাছে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও প্রধানের সাফাই:
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত প্রধান চেমারি বিবি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে আধার, প্যান, ভোটার ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মতো সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে। তিনি আইনগতভাবে লড়াই করেই প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে চেমারি বিবির বাবা অতীতে বাংলাদেশ চলে গেলেও ওই নারী কীভাবে এ দেশে এলেন এবং ভোটার হলেন, তার গভীরে একাধিক জটিলতা রয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।