কেমিক্যাল স্প্রে ছাড়াই নিমেষেই উধাও কেন্নো-পিঁপড়ে! রান্নাঘরের এই ৪ জাদুকরী টোটকা জানলে আর ডাক্তার দেখাতে হবে না

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া কিংবা মরশুম বদলের সময় বাড়ির আনাচে-কানাচে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব এক চিরপরিচিত সমস্যা। বাগানের লতাপাতা পেরিয়ে ঘরের কোণে কেন্নো, বিষাক্ত শুয়োপোকা কিংবা এক ঝাঁক পিঁপড়ের আনাগোনা শুধু যে অস্বস্তিকর তা-ই নয়, অনেক সময় তা অ্যালার্জি বা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। তবে বাজারের ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত পেস্ট কন্ট্রোল স্প্রে ছাড়াই রান্নাঘরের অত্যন্ত সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে ঘরকে পোকা-মাকড়মুক্ত রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো:

কেরোসিন ও লবণের মিশ্রণ (কেন্নোর জন্য):

স্যাঁতসেঁতে জায়গা বা ঘরের নিকাশি নালায় কেন্নোর উপদ্রব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাথরুমের ড্রেন, পাইপ কিংবা দরজার গোড়ায় পর্যাপ্ত লবণ ছিটান। এ ছাড়া সামান্য কেরোসিন তেলে তুলো ভিজিয়ে ঘরের অন্ধকার কোণে রেখে দিলে এর তীব্র গন্ধে কেন্নো নিমেষেই এলাকা ছাড়বে।

নিম তেল ও সাবান জলের স্প্রে (শুয়োপোকার জন্য):

বাগানের গাছপালা বা বাড়ির দেওয়ালে বিষাক্ত শুয়োপোকা দেখা দিলে নিম তেল অত্যন্ত কার্যকরী। এক লিটার জলে ১ চা চামচ নিম তেল এবং কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এবার শুয়োপোকার গায়ে বা তাদের চলাচলের রাস্তায় এটি স্প্রে করুন। এর ফলে তারা আর বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না।

ভিনেগার স্প্রে (পিঁপড়ের জন্য):

পিঁপড়েরা ফেরোমোন (Pheromone) নামক রাসায়নিক সংকেতের সাহায্যে দলবেঁধে যাতায়াত করে। সমপরিমাণ জল ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রান্নাঘরের স্ল্যাব, জানালার ফ্রেম ও ঘরের কোণে স্প্রে করে মুছে নিন। এতে পিঁপড়েদের চলাচলের গন্ধের পথ নষ্ট হয়ে যায় এবং ঘরের ত্রিসীমানায় তারা ঘেঁষে না।

লেবু, কর্পূর এবং বেকিং সোডা:

যেসব জায়গায় ছোট পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশি, সেখানে একটি পাত্রে কিছুটা জলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও একটু গুঁড়ো কর্পূর মিশিয়ে রেখে দিন। এই জোরালো প্রাকৃতিক গন্ধ যেকোনো পোকা দূরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, পিঁপড়ের উপদ্রব মারাত্মক আকার নিলে সমপরিমাণ বেকিং সোডা এবং গুঁড়ো চিনি মিশিয়ে ছোট ছোট কৌটোর ঢাকনায় করে ঘরের কোণে রেখে দিন। চিনির লোভে এসে সোডা খেলেই পিঁপড়ের উপদ্রব থেকে চিরতরে মুক্তি মিলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *