৪০ কেজির দাম সোজা পৌঁছবে ২৭ হাজারে! রেশম চাষে বিরাট চমক, বিজ্ঞানীদের এই টোটকায় বাম্পার লাভ

রেশম চাষে উৎপাদন ও গুণমান বাড়িয়ে চাষিদের আয়ের গ্রাফ একলাফে দ্বিগুণ করতে বড়সড় উদ্যোগ নেওয়া হলো। উন্নতমানের তুঁত পাতা চাষ থেকে শুরু করে রেশম গুটি উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন গবেষক ও আধিকারিকরা। এর জেরে সাধারণ চাষিদের আয় নাটকীয়ভাবে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মালদহের মোথাবাড়ির বাগমারা এলাকায় কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের উদ্যোগে শতাধিক রেশম চাষিকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। ওই শিবিরে উন্নত প্রজাতির তুঁত চাষ, গুটি পোকার পরিচর্যা এবং ফলন বাড়ানোর নানা খুঁটিনাটি বিষয় হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হয়।
উৎপাদন বাড়ার বৈজ্ঞানিক কৌশল:
মালদহ জেলার রেশম চাষ আধিকারিক সুরজিৎ চৌধুরী জানান, বর্তমানে একাধিক উচ্চফলনশীল প্রজাতির তুঁত যেমন— C-2038, C-2060 এবং গঙ্গা (C-1360) চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এর জন্য সঠিক পরিচর্যা জরুরি। জমিতে একটি তুঁত গাছের সঙ্গে অন্য গাছের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা এবং পোকাগুলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফাঁক বজায় রাখলে ফলন বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণত ১০০টি ডিম থেকে যেখানে প্রায় ২৫ কেজি গুটি উৎপাদিত হতো, সেখানে এই আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতিতে ৫০ কেজি বা তারও বেশি গুটি উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
কী বলছেন চাষিরা?
এই নতুন পদ্ধতির সুফল নিয়ে স্থানীয় চাষি মতিউর রহমান জানান, ভালো মানের পাতা হলে যেমন গুটি ভালো হয়, তেমনই উন্নত মানের সুতোও তৈরি করা সম্ভব হয়। সাধারণত এক মণ বা ৪০ কেজি সাধারণ গুটির দাম যেখানে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়, সেখানে উন্নতমানের গুটির দাম মিলতে পারে প্রায় ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, মালদহে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই রেশম চাষ এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মূলত অগ্রহায়ণ, ফাল্গুন ও বৈশাখ মাসে এই চাষ হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের এই সহজ ও আধুনিক টোটকাগুলি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে মালদহের রেশম শিল্পের বাজার যে আরও চাঙ্গা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।