‘আমাদের মধ্যে প্রায়ই বড় ঝগড়া হয়!’ জাভেদ আখতারের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্যের কোন গোপন সত্যি ফাঁস করলেন শাবানা আজমি?

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের হাত ধরে পথ চলেছেন বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও প্রভাবশালী দম্পতি জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমি। বাইরে থেকে এই জুটিকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, তাঁদের সংসার বুঝি রূপকথার মতো নিখুঁত। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা যে সবসময় একসুরে বাঁধা নয়, তা নিজেই খোলাখুলি জানিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন, স্বামী জাভেদের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং জাভেদের প্রথম স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে তাঁর সমীকরণ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

জাভেদের কোন গুণেমুগ্ধ হয়েছিলেন শাবানা?

খাস আড্ডায় শাবানা জানান, জাভেদ আখতারের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং পাণ্ডিতই তাঁকে প্রথমবার সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল। জাভেদের চিন্তাভাবনার মধ্যে তিনি যেন নিজের বাবার ছায়াও দেখতে পেয়েছিলেন। দুই পরিবারের জীবনদর্শন এবং মূল্যবোধের মিলই তাঁদের সম্পর্কের ভিত শক্ত করেছিল। তবে এত বছরের পথচলায় তাঁদের দাম্পত্য যে সবসময় মসৃণ ছিল, এমনটা নয়। শাবানা স্পষ্ট জানান, তাঁদের মধ্যেও প্রায়ই বড় বড় ঝগড়া হয়। কিন্তু সেই মনকষাকষি বা মতবিরোধ কখনোই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনি, কারণ তাঁদের বন্ধুত্বের বাঁধন অত্যন্ত গভীর। স্বামীর সততা, ন্যায়বোধ এবং মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জাদুকরি ক্ষমতার জন্যই তাঁকে গভীরভাবে সম্মান করেন শাবানি।

প্রাক্তনী হানি ইরানির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক:

আলোচনায় উঠে আসে জাভেদ আখতারের প্রথম স্ত্রী তথা পরিচালক-চিত্রনাট্যকার হানি ইরানির প্রসঙ্গও। জাভেদের সঙ্গে যখন শাবানার সম্পর্ক তৈরি হয়, সেই প্রাথমিক সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেই জটিলতা কাটিয়ে উঠেছেন তাঁরা।

হানি ইরানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে শাবানা জানান, হানি অত্যন্ত পরিণত মানসিকতার এক নারী। তিনি কখনো নিজের সন্তানদের মনে শাবানার বিরুদ্ধে কোনো বিষ বা বিদ্বেষ তৈরি হতে দেননি। এমনকী, সন্তানদের সামনে প্রাক্তনী বা স্বামী সম্পর্কে একটিও নেতিবাচক কথা বলেননি তিনি। হানির এই উদারতা এবং পরিপক্বতাকে গভীর শ্রদ্ধা করেন শাবানা। বর্তমানে হানিকে নিজের পরিবারের একজন সদস্য এবং ভাই-বোনের মতো বলে মনে করেন তিনি। ব্যক্তিগত সমস্ত জটিলতা ও কষ্টকে পেছনে ফেলে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার এই জায়গায় পৌঁছানোই তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মত অভিনেত্রীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *