ধ্বংসস্তূপে বেঁচে রইল খাঁটি প্রেম! হড়পা বানের লাল চোখ উপেক্ষা করে স্বামীকে নিয়ে কী করলেন এই নারী?

প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় ছারখার চারপাশ। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে কয়েক মিনিটেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। বারবার বন্যার সতর্কতা জারি হওয়া সত্ত্বেও নিজের বাড়ি বা শয্যাশায়ী স্বামীকে ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যাননি এক নেপালি মহিলা। মৃত্যুভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রিয়জনকে আগলে রাখার এই হৃদয়বিদারক কাহিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এবং সকলের চোখে জল এনে দিয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে করুণ সত্য:

নেপালের ত্রিশূলী বাজারের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার স্বামী সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী এবং তিনি হাঁটতেও পারেন না। হড়পা বানের পরেই মুহুর্মুহু সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন, চারপাশের মানুষ যখন প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছিল, তখন এই মহিলা এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর অসুস্থ স্বামীকে ফেলে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেননি। তাঁর সাফ কথা ছিল, “আমার স্বামী হাঁটাচলা করতে পারেন না, তাই আমি পালাতে পারিনি। যাই ঘটে যাক, আমাকে ওঁর পাশেই থাকতে হবে।”

সর্বস্ব হারিয়েও অটুট বন্ধন:

ত্রিশূলী গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর ও দোকানপাট হড়পা বানের জেরে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সেই ধ্বংসস্তূপের এককোণায় বসে এই ভয়াবহতা চাক্ষুষ করেছেন তামাং দম্পতি। ফের বন্যার সতর্কবার্তা আসায় তাঁদের মনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তবুও প্রিয় স্বামীর হাত ছাড়তে নারাজ ওই নারী। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্প এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *