তাস-দাবাকে বলা হতো সর্বনাশা! সেই ট্যাবু ভেঙে কীভাবে বাংলার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন দিব্যেন্দু?

নেহাতই শখের বশে বাবার দাবা চর্চা দেখা থেকেই শুরু হয়েছিল পথচলা। এরপর সামাজিক বহু ট্যাবু ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলার প্রথম এবং ভারতের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টারের স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। ন্যাশনাল স্পোর্টস ডে উপলক্ষে ‘ইটিভি ভারত’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণময় কেরিয়ারের অজানা গল্প এবং বর্তমান প্রজন্মের দাবা নিয়ে নানান গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরলেন তিনি।

দাবা কেন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত?

ইন্টারভিউতে দিব্যেন্দু বাবু জোর দিয়ে বলেন যে, দাবার বোর্ড কেবল সাদা-কালো ঘুঁটির চাল শেখায় না, বরং এটি একটি শিশুর মধ্যে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক চাপ কমাতে পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই প্রতিটি স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে দাবা শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। এই বিষয়ে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া চেজ ফেডারেশনের এই ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

বাবার অনুপ্রেরণা ও ভারতীয় দাবা:

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দিব্যেন্দু বড়ুয়া জানান, তাঁর সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন তাঁর বাবা বিনয় বড়ুয়া। সেকালে ‘তাস, দাবা, পাশা- তিন সর্বনাশা’ এই মানসিকতা থাকা সত্ত্বেও বাবা তাঁকে সবসময় উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন। বিশ্বনাথন আনন্দের হাত ধরে ভারতে দাবার যে স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছিল, আজ ডি গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ ও অর্জুন এরিগাইসিদের হাত ধরে তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। শততম গ্র্যান্ডমাস্টারের মাইলফলক ছোঁয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় দাবা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী বাংলার এই কৃতি সন্তান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *