সকাল নাকি বিকেল—কোন রোদে পুষ্টি বেশি? না জানলে অজান্তেই বড় ক্ষতি করছেন!

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত সূর্যালোকের বিকল্প নেই। তবে সকাল ও বিকেলের সূর্যালোকের মূল পার্থক্য এবং শরীরের ওপর এগুলির সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।
শরীরের জৈবিক ঘড়ি ও সূর্যালোক
আমাদের শরীরে ২৪ ঘণ্টার একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) কাজ করে, যা ঘুম, জাগরণ এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘড়িটি ঠিক থাকলে শরীর কর্মক্ষম থাকে এবং রাতে গভীর ঘুম হয়। সূর্যালোক সরাসরি মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে দিন শুরু হয়েছে, যা এই অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
ভোরের সূর্যের আলোর জাদুকরী ক্ষমতা
ঘুম থেকে উঠে অন্ধকার ঘরে সময় কাটানো বা ফোনে ব্যস্ত থাকার অভ্যাস মস্তিষ্কের জৈবিক ঘড়ির জন্য ক্ষতিকর। আলোর সংস্পর্শে না এলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না যে সত্যিই সকাল হয়েছে কি না। ঘুম থেকে উঠেই ঘরের কৃত্রিম আলো না জ্বেলে বারান্দা বা ছাদে গিয়ে সকালের আলো গায়ে মাখলে শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নামক হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। নিদ্রা-বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ভোরের আলো ঘুম ও জাগরণের চক্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সারাদিন প্রাণবন্ত রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
সন্ধ্যার আলোর উপকারিতা
ভোরের সূর্যের মতো তীব্রতা না থাকলেও সন্ধ্যার মৃদু আলো শরীরের জন্য সমানভাবে প্রয়োজনীয়। এই সময় শরীরের অন্দরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা মস্তিষ্ককে গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। এমনকি সন্ধ্যার আলোয় মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাচলা করলেও মানসিক চাপ দ্রুত কমে এবং শরীর সম্পূর্ণ শিথিল ও আরামদায়ক বোধ করে।