হিমালয়ের কোলে প্রলয়ঙ্করী বন্যা! মৃত্যু বেড়ে ৫৭৯, আবহাওয়ার অবনতিতে বন্ধ উদ্ধারকাজ

প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অবিরাম বৃষ্টির জেরে থমকে গেল নেপালের বন্যা কবলিত ত্রিশূলি এলাকার উদ্ধারকাজ। আবহাওয়ার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় আকাশপথে হেলিকপ্টার পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে তল্লাশি অভিযান।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। নদীর জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

এই সংকটের মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃতীয় দফায় প্রায় ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে ভারতীয় বিমান। এর পাশাপাশি ১১ সদস্যের একটি বিশেষ চিকিৎসক দল এবং টানেল উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ দলও সেখানে গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সহায়তার কথা নিশ্চিত করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, কাঠমান্ডুতে ভারতের পাঠানো ত্রাণের তৃতীয় বিমান পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে নেপালে পাঠানো ভারতের মোট মানবিক সহায়তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াল সাড়ে সাতান্ন টনে।

বর্তমান চালানে জেনারেটর, জরুরি ডিগনিটি কিট, প্যাকেটজাত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে এই ভারতীয় দলের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *