“বিদেশি সেনার সাহায্য ফেরাচ্ছে নেপাল!”-কাঠমান্ডুর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোন রহস্য?

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮-এ। নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ভারত, চিন ও আমেরিকার মতো পরাশক্তিগুলি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও তা সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছে কাঠমান্ডু।

নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধারকাজ চালাতে সম্পূর্ণ সক্ষম। তবে বিদেশি উদ্ধারকারী দলে না বললেও আর্থিক ও মানবিক সাহায্য গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিদেশি সাহায্য না নেওয়ার কারণ ও ২০১৫-র স্মৃতি

প্রশাসনের একাংশের মতে, ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সময় বহু দেশের উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই সময় বিপুল সংখ্যক বিদেশি দলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং লজিস্টিক সামলানো কাঠমান্ডুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগের বেহাল দশায় সেই জটিলতা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।

পাশাপাশি, রসুয়া জেলার মতো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদেশি দলগুলির প্রবেশাধিকার নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নও জড়িত রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন বিপদের আশঙ্কা

সেনা ও পুলিশের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টার। এদিকে, তিব্বতের দিক থেকে নতুন করে বাঁধ ভাঙার ও জলাধার উপচে পড়ার আশঙ্কায় শুক্রবার কিছুক্ষণের জন্য উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়। নিখোঁজদের তালিকায় বহু ভারতীয় সহ ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন, যাদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *