স্ত্রী-র জন্য নয়, জানেন কার জন্য এত বছর টিকে রয়েছে চঞ্চল চৌধুরীর সংসার? শুনলে আবেগপ্রবণ হবেন আপনিও!

তখন জমানো ছিল বাটন ফোনের যুগ। গভীর রাতে আচমকা বেজে ওঠা একটি ফোন কল আর ওপার থেকে এক তরুণীর কণ্ঠস্বর— “আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে!” কে জানত, সেই ছোট্ট বাক্যটিই দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর জীবনের মোড় চিরতরে ঘুরিয়ে দেবে। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে কুড়ি বছরের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মিষ্টি ও নস্টালজিক প্রেমের গল্প শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যা মুহূর্তে মন কেড়ে নিয়েছে অনুরাগীদের।
যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রেমের গল্প
পোস্টে চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন, মেয়েটি সরাসরি মুখে না বললেও তাঁর মনে হয়েছিল, শুধু অভিনয় নয়—তাঁকেও হয়তো ভালোবেসে ফেলেছেন সেই তরুণী। এরপর মোবাইলে দফায় দফায় কথোপকথন এবং সামনাসামনি দেখাসাক্ষাতের আগেই একদিন ফোনে সোজা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন তিনি!
ততদিনে চঞ্চলের বয়স বাড়ার কারণে পরিবারের তরফ থেকেও বিয়ের চাপ ছিল তুঙ্গে। চঞ্চলের মুখে বিয়ের কথা শুনে তাঁর পরিবার খুশি হলেও, মেয়ের পরিবারে কিছুটা ধন্দ ও দোটানা ছিল। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই দফায়—প্রথমে আইনি ও পরে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সেরে ফেলেন তাঁরা।
কার জন্য টিকে রয়েছে এই সংসার?
পরিবারের নানা টানাপোড়েন ও ধকল মাথায় নিয়ে দেখতে দেখতে কুড়িটি বছর পার করে ফেলেছেন এই দম্পতি। অভিনেতা নিজেই কিছুটা রসিকতার সুরে লিখেছেন, “কখনও ভাবিইনি যে, আমার মতো বাউন্ডুলের সঙ্গে ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবে!” তবে তাঁদের এই দীর্ঘ পথচলার প্রধান অনুঘটক বা চালিকাশক্তি যে তাঁদের একমাত্র সন্তান ‘শুদ্ধ’, সেকথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
পোস্টের শেষে এক চিলতে বিনয় ঝরে পড়েছে এই তারকার কলমে। ভক্তদের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁর চেয়েও যেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলের জন্য সবাই বেশি করে দোয়া বা প্রার্থনা করেন। আর সবশেষে সেই রহস্যের উন্মোচন ঘটিয়ে চঞ্চল চৌধুরী পরিচয় করিয়ে দেন তাঁর সেই বিশেষ মানুষটির সঙ্গে—যিনি বহু বছর আগে গভীর রাতে বাটন ফোনে প্রথম ফোন করেছিলেন, তিনি আর কেউ নন, ডা. শান্তা। জীবন নদীর এই দীর্ঘ যাত্রায় অভিনেতার এই মন ছোঁয়া পোস্ট এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।