চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন বৃদ্ধ, তারপরেই গলা কেটে নৃশংস খুন! মালদায় জোড়া রক্তক্ষয়ী ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য!

একই দিনে জোড়াবাড়িতে ঘটে যাওয়া দুটি নৃশংস খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠল মালদার ইংরেজবাজার এলাকা। দুটি ক্ষেত্রেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের জেরে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনা: গভর্নমেন্ট কলোনিতে বৃদ্ধের রহস্যমৃত্যু
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে মালদা শহরের ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকায়। ৬০ বছরের অর্ণব সেন নামের এক বৃদ্ধ ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। শুক্রবার সকালে তাঁর ভাই পিন্টু সেন বাড়িতে এসে দেখতে পান দরজা খোলা এবং ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ছড়িয়ে রয়েছে। বিছানায় মুখে বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় ছিল অর্ণববাবুর দেহ। বালিশ সরাতেই তাঁর গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরিচিত কেউ ঘরে এসে চায়ের আসর বসিয়েছিল এবং সুযোগ বুঝে তাঁকে খুন করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি চায়ের কাপ ও খোলা ইনডাকশন উনুন উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরেন্সিক টিমের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় ঘটনা: সাট্টারিতে গৃহবধূ খুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
অপর ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজারের সাট্টারি এলাকায়। শীলা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূর গলা কাটা ও ক্ষতবিক্ষত দেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মৃতার স্বামীর জড়িয়ে থাকার জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শীলার কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁর দিদি বাড়িতে এসে তালা ঝুলতে দেখেন। এদিকে তাঁর স্বামী ও সন্তানকে ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনের দিকে রওনা দিতে দেখা যায়। পরে সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাদের ডেকে পাঠায় এবং গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে ঘরের মেঝেতে রক্ত ও খাটের তলা থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
মৃতার ছোট সন্তানের বয়ান অনুযায়ী, তার বাবা রক্তাক্ত বালতি নিয়ে এদিক-ওদিক করছিল এবং মাকে খাটের তলায় লুকিয়ে রাখতে সে নিজের চোখেই দেখেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবেই এই খুন করা হয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ। মৃতার স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।