‘বাংলায় থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতেই হবে!’ রাখির মঞ্চ থেকে যাদবপুরকে চরম হুঙ্কার দিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাখিবন্ধনের পবিত্র উৎসব এ দিন পরিণত হয়েছিল দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের এক উচ্চকিত মঞ্চে। আর সেই মঞ্চ থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্যাম্পাসের অন্দরে ‘আজাদি’ স্লোগান কিংবা দেওয়ালে মাওবাদী নেতার স্মরণে স্লোগান লেখার তীব্র নিন্দা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ রাজ্যে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ বলতেই হবে এবং জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে প্রশাসন কোনোভাবেই আপস করবে না।
যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও ক্ষোভ প্রকাশ
সম্প্রতি ছাত্র সংঘর্ষ ও নানা বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং এবিভিপি-র বিবাদ ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্তির আবহে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হয়। ভবানীপুর এবং নজরুল মঞ্চের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুরের ‘দিমাগি নকশাল’ ও একাংশ পড়ুয়াদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘আজাদি’ স্লোগান বা যাদবপুরের আর্টস বিভাগের হস্টেলের দেওয়ালে দেশকে ছোট করে কার্টুন আঁকা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদবপুর ক্যাম্পাসের দেওয়ালে কিষেণজির সমর্থনে স্লোগান বা রেড স্যালুট জানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, দেশের অভ্যন্তরে থেকে যারা দেশের মূল ভিত্তিকে আক্রমণ করবে, তাদের আবর্জনার মতো পরিষ্কার করতে হবে। যাদবপুরের একাংশ পড়ুয়া ও বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, দেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ সহ্য করবে না সরকার।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলেও তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএম এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। তবে সমস্ত বিতর্ককে দূরে সরিয়ে প্রশাসন যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে অনড়, তা এদিনের বার্তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।