পাহাড়ে বড় ধাক্কা পর্যটকদের! ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিলিগুড়ির গাড়িতে দার্জিলিং দর্শনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা?

দীর্ঘকাল ধরে পাহাড় এবং সমতলের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্কের ওপর ভর করেই এগিয়ে চলেছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প। কিন্তু দার্জিলিংয়ের গাড়ি চালক সংগঠন ‘সংযুক্ত চালক মঞ্চ’-এর একটি আকস্মিক সিদ্ধান্ত সেই সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে শিলিগুড়ি বা সমতলের কোনো গাড়ি দার্জিলিংয়ে লোকাল সাইটসিয়িং এবং টাইগার হিল ভ্রমণ পরিষেবা দিতে পারবে না বলে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ ও সমতলের প্রতিক্রিয়া

সংযুক্ত চালক মঞ্চের সভাপতি পাসং শেরপা এবং সাধারণ সম্পাদক প্রসন্ন প্রধানসহ অন্যান্য কার্যকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ের স্থানীয় চালকদের রুজি-রোটি ও অধিকার সুরক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের চালকদের কাজ কেড়ে নিয়ে সমতলের গাড়িগুলি সাইটসিয়িং করাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

তবে এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন সমতল অঞ্চলের পর্যটন ও পরিবহন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিলিগুড়ি, এনজেপি এবং আশপাশের সমতল অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার গাড়িচালক ও মালিক প্রতিদিন পর্যটকদের নিয়ে পাহাড়ে যান। হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় তাদের রুজি-রোজগারে বড় আঘাত আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাল্টা হুঁশিয়ারি ও পর্যটকদের ভোগান্তি

সমতলের গাড়িচালক ও মালিক সংগঠনগুলি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শিলিগুড়ি বৃহত্তর চালক ও ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নৃপেন রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ের সংগঠন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে তারাও এনজেপি, বাগডোগরা বিমানবন্দর কিংবা শিলিগুড়ি জংশন থেকে পাহাড়ের গাড়িগুলির পর্যটক তোলার ক্ষেত্রে পাল্টা বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হবেন।

পাহাড় ও সমতলের এই সম্ভাব্য সংঘাতে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়বেন সাধারণ পর্যটকরা। একটিমাত্র গাড়িতে পুরো ভ্রমণ শেষ করার সুবিধা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাঝপথে গাড়ি বদলানো এবং অতিরিক্ত অর্থ খরচের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে তাদের। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারোর রুজি-রোজগার বন্ধ না করে উভয় পক্ষের আলোচনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই কেবল উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *