১ ডলারে মিলছে ২০ লাখ রিয়াল! ওষুধের দাম ৬০০% বৃদ্ধি পেয়ে ধ্বংসের মুখে কোন প্রভাবশালী দেশ?

একসময়ে গোটা বিশ্বে অবাধে তেল সরবরাহ করা শক্তিশালী দেশ ইরান আজ এক গভীর ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে লাগাতার চলা দ্বন্দ্ব, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার জেরে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পর্যায়ে ইরানি মুদ্রা

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ইরানি রিয়াল ইতিহাসের সবচেয়ে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে মিলছে প্রায় ২০ লক্ষ রিয়াল! মুদ্রার এই চরম পতনের জেরে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

হু হু করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের দাম

অর্থনৈতিক সঙ্কটের এই কোপে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ। দেশটিতে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে—বিশেষ করে ইনসুলিনের দাম একলাফে ৬৪২ শতাংশ এবং জ্বালানি তেলের দাম ১৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের দেশ হয়েও জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ইরানে ১৩.৫ কোটি লিটার পেট্রোলের প্রয়োজন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১২ কোটি লিটার। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ কোটি লিটারের বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা আমদানি রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

থমকে গেছে জনজীবন

রাজধানী তেহরানে যাতায়াতও দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রিয় ক্যাব পরিষেবা যেমন ‘স্ন্যাপ’ এবং ‘ট্যাপসি’-র ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে দৈনন্দিন যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আবহ ও নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে একসময়ের ধনী এই রাষ্ট্রটি আজ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *