“চার্চে প্রার্থনা করতে গেলেই দিতে হচ্ছে সেলফ ডিক্লারেশন ফর্ম!” মহারাষ্ট্রে হঠাৎ এই নতুন নিয়মের কারণ কী?

মহারাষ্ট্রে ধর্ম স্বাধীনতা আইন কার্যকর হতেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন শোরগোল শুরু হয়েছে। এই নতুন আইনের খাঁড়া নামতেই মুম্বই মহানগরী সহ বসাই-ভিরার, মীরা-ভাইন্দর, পালঘর এবং থানের বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘সেলফ ডিক্লারেশন ফর্ম’ বা স্বঘোষণা পত্র भरवाए (ভরানো) হচ্ছে। এই ফর্ম সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।

কেন হঠাৎ এই ফর্ম ভরানোর হিড়িক? আইন অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, লোভ, প্রতারণা বা হুমকির মাধ্যমে ধর্মান্তকরণ করানো হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য কঠোর জেলের পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে গির্জা বা ধর্মগুরুদের ওপর যেন জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা বা আইনি অভিযোগ না আসে, তার থেকে সুরক্ষা পেতেই এই আগাম সতর্কতা। ফর্মের মাধ্যমে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিতভাবে ঘোষণা করিয়ে নেওয়া হচ্ছে যে তাঁরা সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রার্থনা সভায় যোগ দিয়েছেন।

আইন নিয়ে নানা মত ও বিতর্ক: বম্বে ক্যাথলিক সভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এটি কোনো সরকারি ফর্ম নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলা এড়ানোর একটি উপায় মাত্র। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলোর তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে প্রার্থনা সভায় যদি কোনো ভুল বা অনৈতিক কিছু না-ই ঘটে থাকে, তবে কেন সাধারণ ভক্তদের এই ধরনের ঘোষণা পত্র পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে? সবমিলিয়ে, নতুন এই আইনের প্রয়োগ এবং গির্জাগুলির এই precautionary step (এখতিয়াবি পদক্ষেপ) মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *