“২০৫০ সালের মধ্যে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে হিমালয়ের বড় অংশ?” ভারতের জন্য কোন ভয়ংকর বিপদের ঘণ্টা বাজালেন বিজ্ঞানীরা?

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় হিমালয়ের বুকে নেমে আসছে এক বিরাট অশনি সঙ্কেত। সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট এবং রাষ্ট্রসংঘের (UN) তথ্য অনুযায়ী, হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি ভয়ংকরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত তিন দশকে নেপাল তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ বা বরফের ভাণ্ডার হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার (Basin) প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হিমবাহ সম্পূর্ণ গলে যেতে পারে, যা ভারতসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক বড় বিপদ ডেকে আনছে।

ভারতের কোন রাজ্যগুলোর উপর সবচেয়ে বড় খড়্গ? হিমালয়ের তাপমাত্রা বিশ্ব গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এর জেরে একদিকে যেমন হিমবাহগুলি দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে, তেমনই পাহাড়ি অঞ্চলের স্থায়িত্বও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

  • পাহাড়ি রাজ্যসমূহ: উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহের হ্রদ (Glacial Lakes) ফেটে হঠাৎ আকস্মিক বন্যা বা GLOF (Glacial Lake Outburst Flood) এবং বড় ধরনের ভূমিধসের (Landslide) ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে।

  • সমতল ও নদী তীরবর্তী রাজ্যসমূহ: গঙ্গা অববাহিকার অন্তর্ভুক্ত উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে এর দীর্ঘমেয়াদী এবং মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

প্রথমে ভয়াবহ বন্যা, পরে জলের তীব্র সংকট (দুটি দিক): বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে ভারতের সামনে মূলত দুটি বড় সংকট অপেক্ষা করছে—

  1. শুরুতে প্রলয়ংকরী বন্যা: তাপমাত্রা বাড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত বরফ গলে নদীতে হঠাৎ জলস্তর হু-হু করে বাড়বে, যার ফলে নিচু ও তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে মারাত্মক বন্যার মুখোমুখি হতে হবে।

  2. ভবিষ্যতে জলের আকাল: একবার হিমবাহগুলির আয়তন ও ভাণ্ডার ছোট হয়ে গেলে গ্রীষ্মকালে নদীগুলির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এর ফলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কৃষি কাজ, পানীয় জলের সরবরাহ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি চরম সংকটের মুখে পড়বে।

সব মিলিয়ে, হিমালয়ের গলতে থাকা বরফ কেবল পরিবেশের কোনো সাধারণ পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দিনে ভারতের জল সুরক্ষা, অর্থনীতি এবং কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এক সুদূরপ্রসারী ও গভীর সংকট হিসেবে দেখা দিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *