‘গদ্দারদের আর ফেরানো হবে না!’-প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব আজ চরম আকার ধারণ করল। একদিকে যখন ক্যাথিড্রাল রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সভা চলছিল, ঠিক তখনই রানি রাসমণি রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরের পাল্টা মিটিং ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাথিড্রাল রোডের প্রধান মঞ্চ থেকে দলের বিদ্রোহী বিধায়ক ও সাংসদদের নিশানা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলত্যাগীদের আর কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।

সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিসের সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড এবং ১৩ জনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিজেপিকে একহাত নেন অভিষেক। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যত ইচ্ছে অত্যাচার করা হোক, তৃণমূল কর্মীরা সব সহ্য করতে প্রস্তুত। এর পরেই নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক কটাক্ষের সুরে বলেন, যাঁরা দুর্দিনে কর্মীদের হাত ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, তাঁদের তৃণমূল কোনো ছাড়বে না। তিনি বলেন, ‘যারা এই সময় কর্মীদের হাত ছেড়ে বিসি গ্রুপে নাম লিখিয়েছিলেন, আমি বিসি বলি, বালিশ চাটা বলি না, বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন, তাদের আগামী দিনে কোনও ছাড় তৃণমূল কংগ্রেস দেবে না। এদের যা জেদ, তার দশ গুণ জেদ আমার।’ ইডি, সিবিআই বা পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়েও মুখ থেকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান আটকানো যাবে না বলে হুংকার দেন তিনি।

মঞ্চে সুর চড়ান মমতাপন্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, দলছুট ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করে তবেই তিনি ছাড়বেন। একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী শিবিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার স্বপ্নও চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এদিন ক্যাথিড্রাল রোডে টিএমসিপির মূল প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে পৃথক সভা করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালায়। ঐতিহ্য বজায় রেখে এদিন মহাজাতি সদনে কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদও তাদের প্রতিষ্ঠাদিবস পালন করেছে। তবে একই দিনে শাসক দলের জোড়া সভা এবং প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে শীর্ষ নেতাদের এই আক্রমণাত্মক বার্তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *