জলদাপাড়া, গরুমারা, বক্সায় সাফারির টিকিট অনলাইনে, জঙ্গল সাফারিতে বড় বদল

সামনেই পুজো। ছুটি পেতেই পাহাড় কিংবা জঙ্গলমুখী হতে শুরু করেছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। আর ডুয়ার্সের সবুজে ঘেরা জঙ্গল মানেই পর্যটকদের কাছে আলাদা এক আকর্ষণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডুয়ার্সের জলদাপাড়া, গরুমারা এবং বক্সার মতো জনপ্রিয় জঙ্গলগুলিতে জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছিল দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের। কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। তবে পুজোর মরশুমের আগে সেই ভোগান্তি কাটাতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য বনদপ্তর। সব ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই ডুয়ার্সের জঙ্গলগুলিতে ফের চালু হতে চলেছে জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা।

গত বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে জলদাপাড়া বনবিভাগের তরফে জাতীয় উদ্যানে সাফারির অনলাইন বুকিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অফলাইন বুকিংয়ের নিয়ম চালু হওয়ায় ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে কাউন্টার থেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছিল। যার জেরে স্থানীয় স্তরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল দালালচক্র। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে পর্যটকদের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নানা হয়রানির অভিযোগও উঠছিল। পর্যটন ব্যবসায়ীদের বারবার অভিযোগ ছিল, অগ্রিম বুকিংয়ের নিশ্চিত ব্যবস্থা না থাকায় দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছিলেন এবং ডুয়ার্সে পর্যটকের ভিড়ও কমছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁড়াও। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জঙ্গল সাফারি করতে এসে পর্যটকদের যাতে আর কোনোভাবেই দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার না হতে হয়, সেই কারণেই জনস্বার্থে জিপসি সাফারিতে অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বনদপ্তরের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যজুড়ে থাকা পর্যটন মহল ও বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলি।

অনলাইন বুকিং চালু হলে পর্যটকরা ঘরে বসেই WBSFDA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জলদাপাড়াসহ বিভিন্ন অভয়ারণ্যের সাফারি বুক করতে পারবেন। চিলাপাতা কার সাফারি, মাদারিহাট কার সাফারি বা শালকুমার গেট কার সাফারির মতো বিভিন্ন আকর্ষণীয় রুটের পাশাপাশি সাফারির নির্ধারিত সময় ও খরচ সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন তাঁরা। পুজোর ছুটির আগে বনদপ্তরের এই পদক্ষেপে ডুয়ার্সমুখী পর্যটকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *