ডেঙ্গু হলে পেঁপে-কিউই কি ম্যাজিকের মতো প্লেটলেট বাড়ায়? জানুন চিকিৎসকদের আসল সত্যিটা!

বর্ষার মরশুম মানেই জল জমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া। এই সময়ে জ্বর, সারা শরীরে তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা এবং অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গে ভোগেন বহু মানুষ। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি অনেকেরই রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সঠিক ওষুধের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল, তরল খাবার এবং পুষ্টিকর ডায়েট বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পেঁপে ও কিউই কতটা উপকারী?
ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জোগাতে ফল অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে পাকা পেঁপে ও কিউই এই সময়ে বিশেষ উপকারী বলে মনে করা হয়।
-
পাকা পেঁপে: এতে রয়েছে ভরপুর ভিটামিন সি, ফোলেট, পটাশিয়াম এবং একাধিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ডেঙ্গুজনিত দুর্বলতা কাটাতে এবং পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে এটি দারুণ কাজ করে। পেঁপে হজম করাও সহজ। তবে পেঁপের পাতার রস খেলে রাতারাতি প্লেটলেট বেড়ে যাবে—এমন ধারণার পক্ষে এখনও পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
-
কিউই ফল: ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ফোলেটে সমৃদ্ধ কিউই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে শুধু কিউই খেয়ে প্লেটলেট বাড়িয়ে নেওয়ার কোনো নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, একে সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবেই খাওয়া উচিত।
সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা দরকার। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁপে বা কিউই অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও এগুলিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভাবা মারাত্মক ভুল হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, চিকিৎসকের নির্দেশমতো ওষুধ (সাধারণত প্যারাসিটামল), প্রচুর জল ও তরল খাবার এবং নিয়মিত রক্তপরীক্ষাই ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার মূল চাবিকাঠি।