আজ ভোট হলে ফের কার সরকার? মোদীর জনপ্রিয়তা কমতেই সমীক্ষায় সামনে এল বিরাট চমক!

লোকসভা নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হলে ফের একবার এনডিএ (NDA) জোটই ক্ষমতায় ফিরবে—এমনটাই আভাস দিচ্ছে ইন্ডিয়া টুডে-সিভোটারের সাম্প্রতিক ‘মুড অফ দ্য নেশন’ (Mood of the Nation) সমীক্ষা। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে এই সমীক্ষার পরিসংখ্যান, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের ঝুলিতে আসন সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

এনডিএ বনাম ইন্ডিয়া জোটের আসন সংখ্যা

সিভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে নির্বাচন হলে এনডিএ পেতে পারে ৩২৬টি আসন। যদিও গত জানুয়ারি মাসের সমীক্ষায় প্রাপ্ত ৩৫২টি আসনের তুলনায় এই সংখ্যা ২৬টি কম, তবুও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের তুলনায় এই জোট যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া (INDIA) জোট এই সমীক্ষায় ১৮৫টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে, যা জানুয়ারির ১৮২টি আসনের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও ২০২৪ সালের জেতা ২৩৪টি আসনের তুলনায় অনেকটাই কম। একক দল হিসেবে বিজেপি পেতে পারে ২৬১টি আসন, যা ম্যাজিক ফিগার ২৭২-এর ওপরে থাকলেও বিগত হিসেবের চেয়ে কম।

কংগ্রেসের উত্থান এবং জেন জি-র ক্ষোভ

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনির্চলতা ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেন জি প্রজন্মের তরুণদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে এর মাঝেই রাহুল গান্ধীর নতুন রাজনৈতিক কৌশলের সুফল পেতে শুরু করেছে কংগ্রেস। সমীক্ষা অনুযায়ী, কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ৮০ থেকে বেড়ে ১০৬টিতে পৌঁছাতে পারে। মহিলা সংরক্ষণ এবং ছাত্র আন্দোলনের মতো একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যুকে সামনে রেখে কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সমীক্ষার ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে চমক

এই সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার নিরিখে যথারীতি শীর্ষে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী (৪৮.৭%) এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী (২৭.১%)। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে তৃতীয় স্থানে। রাজনীতিতে নবাগত হওয়া সত্ত্বেও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় (TVK প্রধান) ৯.২% ভোট পেয়ে সরাসরি তৃতীয় সর্বাধিক পছন্দের নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো অভিজ্ঞ জাতীয় নেতাদের পিছনে ফেলে বিজয়ের এই উত্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *