‘১০০% খাঁটি’ বা ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বললেই সোজা অ্যাকশন! FSSAI-এর পদক্ষেপে পিছু হটল ৫টি কোম্পানি!

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ামক সংস্থা FSSAI-এর কড়া অ্যাকশনের পরেই এবার শুধরে নিতে শুরু করেছে একের পর এক দেশি-বিদেশি নামী ব্র্যান্ড। খাবার ও পানীয়ের পুষ্টিগুণ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মিথ্যা দাবি করা এবার আর ধোপে টিকছে না। মন্ডেলেজ ইন্ডিয়া (যা জনপ্রিয় পানীয় বোর্নভিটা প্রস্তুত করে), অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া এন্টারপ্রাইজ সহ একাধিক হেভিওয়েট ব্র্যান্ড তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে মিথ্যে ও অতিরঞ্জিত দাবিগুলি পাকাপাকিভাবে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে।
FSSAI-এর নজরে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের ফাঁদ
প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণের তুলনামূলক দাবি, ‘১০০% খাঁটি’ কিংবা ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’-এর মতো শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাগাতার অনিয়ম নজরে আসছিল FSSAI-এর। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং ট্রেড নেমের দাবি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসাগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কড়া পদক্ষেপের পরেই নড়েচড়ে বসে সংস্থাগুলি এবং দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বোর্নভিটা থেকে অ্যামওয়ে: কে কী বদল আনল?
-
মন্ডেলেজ ইন্ডিয়া (বোর্নভিটা): বহুল বিক্রিত এই পানীয়টির পুষ্টিগুণ নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার অভিযোগ উঠতেই FSSAI-এর পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়। নীতিনির্দেশিকা মেনে মন্ডেলেজ সেই সমস্ত দাবি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও ওই দাবিসংযুক্ত বিজ্ঞাপনগুলি পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
-
অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া (নারকেল তেল ও XS ড্রিঙ্ক): অ্যামওয়ে তাদের নারকেল তেলের বোতলে ‘100% Pure Coconut Oil’ বা ১০০ শতাংশ খাঁটির দাবি করত। FSSAI-এর আপত্তির পর তারা সেই দাবি বাদ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুরনো প্যাকেজিংযুক্ত স্টক বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং নতুন মোড়কে পণ্য বাজারে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, অ্যামওয়ের ক্যাফেইনযুক্ত XS পণ্যে ‘Energy Drink’ শব্দটির ব্যবহার নিয়েও আপত্তি তোলে FSSAI। ২০২৬ সালের অগাস্টের পরবর্তী উৎপাদন চক্র থেকেই এই শব্দটি পাকাপাকিভাবে বাদ দিতে রাজি হয়েছে সংস্থাটি।
-
অন্যান্য সংস্থা (Sapiens Labs ও Juza Foods): Sapiens Labs তাদের ‘suo moto’ দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অন্যদিকে, কেরল-ভিত্তিক Juza Foods তাদের পণ্যে ‘Real and pure nutrition’, ‘100% vegan’ এবং ‘ideal for sensitive babies’-এর মতো একাধিক বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক দাবি করায় নজরে পড়েছিল। FSSAI-এর চাপে সমস্ত অনিয়ম স্বীকার করে জুজা ফুডস তাদের সমস্ত বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও দাবি তুলে নিয়েছে। এমনকি সংশোধন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পণ্য বিক্রির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে FSSAI-এর এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।