CJP-নির্বাচনে লড়লে ভোট দেবেন? জেনেনিন সমীক্ষায় কি মিলল জবাব?

দিল্লির যন্তর-মন্তরে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP। তাদের প্রবল চাপের মুখেই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলির পরোক্ষ সমর্থনের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠনটি। কিন্তু ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কি সত্যিই এই সংগঠনের কোনো সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব আছে? এই প্রশ্নটিরই উত্তর খুঁজতে সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে এবং সি ভোটারের যৌথ উদ্যোগে ‘মুড অফ দ্য নেশন’ সমীক্ষা চালানো হয়।

রাজনৈতিক দল নাকি আন্দোলনকারী? কী ভাবছে জনতা?

সমীক্ষায় সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, CJP যদি একটি সরকার বিরোধী সংগঠন হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম চালাতে চায়, তবে তারা কি সফল হবে?

  • ৩৯ শতাংশ মানুষের মতে, CJP-র প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে না এসে একটি শক্তিশালী চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন বা প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

  • অন্যদিকে, ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অভিজিৎ দীপ বা সৌরভ দাসদের মতো সংগঠনের মুখদের সরাসরি সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা উচিত।

এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট যে, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ CJP-র উপস্থিতি এবং তাদের আন্দোলনকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন।

তবে সংগঠনটি যদি ভবিষ্যতে সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তবে সাধারণ মানুষ তাদের কতটা গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে। ৩৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা CJP-কে ভোট দিতে রাজি আছেন, কিন্তু এর বিপরীতে ৪৩ শতাংশ মানুষ স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে তারা এই দলের প্রার্থীদের ভোট দেবেন না। অর্থাৎ, জনসমর্থনের দিক থেকে পাকা জায়গা তৈরি করতে হলে ককরোচ জনতা পার্টিকে এখনও বেশ কিছুটা পথ হাঁটতে হবে।

জেন-জির আসল উদ্বেগ কোথায়? শিক্ষা নাকি চাকরি?

দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জিদের মানসিকতা ঠিক কোন দিকে ঝুঁকছে, তাও উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। তাদের কাছে বর্তমান সময়ে জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার কোনটি—শিক্ষা নাকি চাকরি?

  • ৫৩ শতাংশ তরুণ-তরুণী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভালো কর্মসংস্থান বা চাকরিই তাঁদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

  • ২২ শতাংশের কাছে শিক্ষালাভ বা গুণগত পড়াশোনাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

  • ১২ শতাংশ তরুণ-তরুণী মনে করছেন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতিই তাদের প্রধান সমস্যা।

  • মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে এই তালিকার শীর্ষে রেখেছেন।

কাজের সুযোগ তৈরির দায়িত্ব কার কাঁধে?

তরুণ প্রজন্মকে কর্মসংস্থানের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব কাদের—এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে দেশের মানুষের আঙুল মূলত সরকারের দিকেই।

  • ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, দেশের যুবসমাজকে কাজের উপযোগী করে তোলার মূল দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারেরই।

  • ১৪ শতাংশের মতে, এই দায়িত্ব স্কুল এবং কলেজগুলির ওপর বর্তায়।

  • ৯ শতাংশ মানুষ বেসরকারি নিয়োগকর্তাদের এই কাজের জন্য দায়ী করেছেন।

  • মাত্র ৫ শতাংশের ধারণা, এই দায়িত্ব মূলত পরিবারের।

এই সমীক্ষার ফলাফল পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা এখন সরাসরি নীতিনির্ধারণ এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। আগামী দিনে রাজনীতির সমীকরণে এই জনমত কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *