একসময় রাত জেগে আসর জমাতো, মোবাইলের যুগে আজ কেন হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী লোকগান?

মোবাইলের যুগে হারিয়ে যাওয়ার পথে বাংলার লোকসংস্কৃতি! অস্তিত্ব সংকটে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী ‘আলকাপ’ গান
আধুনিক স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং রিয়ালিটি শোয়ের ভিড়ে তলিয়ে যেতে বসেছে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির বহু পুরোনো ঐতিহ্য। একসময় যে আলকাপ গান ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম এবং রাত জাগার সঙ্গী, তা আজ চরম সঙ্কটের মুখে। মুর্শিদাবাদ জেলার গর্ব এই আলকাপ লোকসঙ্গীত ও পঞ্চরস আজ আধুনিকতার ভিড়ে মার খেতে খেতে প্রায় বিলুপ্তির পথে।
আলকাপ ও পঞ্চরসের বিশেষত্ব: লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী এই লোকসঙ্গীতে খোশ গল্প-গুজব, হাসি-ঠাট্টা, মশকরা এবং সমাজের ভালো-মন্দের নানা দিক অত্যন্ত নিপুণভাবে গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হতো। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আলকাপ গানে বিনোদনের নতুন ধারা যুক্ত হয়ে এর নাম হয়েছে ‘পঞ্চরস’। আসর বন্দনা দিয়ে শুরু হওয়া এই পরিবেশনায় গান, হাস্যকৌতুক এবং মূল আলকাপের পালা—এই পাঁচ ধরনের বিনোদন একত্রিত থাকে। মুর্শিদাবাদের বহু পরিবার একসময় এই আলকাপের পালার ওপর নির্ভর করেই নিজেদের সংসার চালাতেন।
কেন এই দুর্দিন? শিল্পীদের আক্ষেপ, দিন যত এগোচ্ছে ততই কমছে অনুষ্ঠান ও উপার্জনের পথ। ২০০-র বেশি আলকাপ দল থাকলেও বর্তমানে তা হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থায় এসে ঠেকেছে। সরকারি নামমাত্র সাম্মানিক বা প্রকল্পের প্রচার ছাড়া এই শিল্পীদের বড় কোনো আয়ের উৎস নেই। টেলিভিশন সিরিয়াল ও ডিজিটালের দৌরাত্ম্যে নতুন প্রজন্ম আজ গ্রাম বাংলার এই মাটির গান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে আধুনিকতার কোপে পড়ে মুর্শিদাবাদের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আলকাপ শিল্প আজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।